ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে বৈঠক করে স্মারকলিপি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল বিরোধী দল কংগ্রেস। তবে বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি। এ বিষয়ে চারটি কারণ জানিয়েছেন সূর্য কান্ত। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
গতকাল এক ঘোষণায় কংগ্রেস আজ দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেয়া। তবে বিরোধী দলের অনুরোধের জবাবে প্রধান বিচারপতি চারটি বিষয় তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।
প্রথমত, বিরোধীরা যেসব অভিযোগ তুলে ধরতে চায়, তার মধ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
দ্বিতীয়ত, সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আদালত প্রশাসনিক পর্যায়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ভারতের প্রধান বিচারপতি জানান, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া আদালতের অন্যান্য ক্ষমতাও রয়েছে। এসব অভিযোগ তুলে ধরে সোমবার কোনো আবেদন জমা দেয়া হলে পরদিনই সেটির শুনানি হবে। ওই দিন আগে থেকে বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত থাকার কথা।
তিনি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় আদালতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে বলেন, নাগরিকদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির ডাক দিয়ে শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজের সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। এ কর্মসূচিতে বিরোধী দলগুলোর একটি প্রতিনিধিদলের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। পদযাত্রাটি আজ স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় দিল্লির কনট প্লেস ও বারাখাম্বা রোডের সংযোগস্থল থেকে শুরু হয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা।
ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আগামীকাল আমরা ভারতীয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রা করব। দল, লিঙ্গ, জাতপাত, সম্প্রদায় ও রাজ্যের বিভেদ পেরিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। তরুণ সমাজ, সব বিরোধী দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন ও ভারতের সংবিধানের পক্ষে রয়েছেন, তারা আমাদের সঙ্গে হাঁটবেন।’
তিনি বলেন, ‘দেশের পক্ষ থেকে আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেব। এতে ভোট চুরি বন্ধ করা, এসআইআর স্থগিত করা এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হবে।’
রাহুল গান্ধী জনগণকে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এই কাপুরুষরা আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। তাদের সরে দাঁড়াতেই হবে। আমরা ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে একসঙ্গে পদযাত্রা করব।’
রাহুলের অভিযোগ, দেশের তরুণেরা ‘হৃদয়ে ভালোবাসা’ নিয়ে দিল্লির রাস্তায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে নেমেছিলেন। কিন্তু পুলিশ ও বিজেপিকর্মীরা তাদের মারধর করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন ভারত চাই না।’
দিল্লির কেন্দ্রস্থলে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর সমাবেশ ঠেকাতে টানা দুই দিন পুলিশের অভিযান চালানোর পর পদযাত্রায় কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি), রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর বামপন্থী কর্মীদের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে বিরোধীদের বিক্ষোভের তুলনায় এবারের পদযাত্রা আরো বড় করার চেষ্টা চলছে।
বিরোধীদের ইন্ডিয়া ব্লকের সব দলের সংসদ সদস্যদের আজ বিক্ষোভে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। সূত্রের তথ্যানুযায়ী, তাদের মধ্যে আছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব, সিপিআইয়ের পি সন্তোষ কুমার এবং সিপিআইএমের এম এ বেবি ও জন ব্রিটাস।
গত ৯ অক্টোবর ইন্ডিয়া ব্লকের সংসদ সদস্যরা এসআইআর ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর পরিচালনা নিয়ে অনিয়ম ও ‘ভোট চুরির’ যে অভিযোগ বিরোধীরা তুলেছে, রাষ্ট্রপতি তা ‘অস্বীকার করেননি’।
এর আগের দুই দিনও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছিলেন ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা।