চার বছরে ভারতে ঘড়ি বিক্রি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা ক্যাসিওর

ভারতে দ্রুত বাড়তে থাকা ঘড়ির বাজারে আরো বড় পরিসরে ব্যবসা করতে চায় জাপানের ক্যাসিও। এজন্য দেশটিতে নিজেদের দোকানের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনও বাড়াবে প্রতিষ্ঠানটি।

২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ক্যাসিওর ঘড়ির দোকানের সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে বাড়িয়ে ১৩০টিতে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সময় ভারতে উৎপাদিত ঘড়ির হিস্যাও বাড়ানো হবে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

কোম্পানিটি জানায়, ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কাজে লাগাতে চায় ক্যাসিও। আগামী চার বছরে দেশটিতে ঘড়ি বিক্রি দ্বিগুণের বেশি করার লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ক্যালকুলেটর বিক্রির সময় তৈরি করা পুরনো বিতরণ নেটওয়ার্কও কাজে লাগাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভারতের বাজারে বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটিতে উৎপাদনও বাড়াতে চায় ক্যাসিও। গত বছর বেঙ্গালুরুতে ঘড়ি উৎপাদন শুরু করে এ প্রতিষ্ঠান। সেখানে ক্যাসিও ব্র্যান্ডের মাঝারি ও তুলনামূলক কম দামের কয়েকটি মডেল তৈরি হচ্ছে।

আগামী বছর সেখানে ক্যাসিওর নারীদের জন্য বিশেষ ঘড়ির ব্র্যান্ড ‘শিন’-এর উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ভবিষ্যতে ভারতের স্থানীয় উৎপাদনের হিস্যা মোট বিক্রির প্রায় ৩০ শতাংশে নেয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

এতদিন ক্যাসিও মূলত জাপান, থাইল্যান্ড ও চীনে ঘড়ি উৎপাদন করেছে। ভারতের বাজারে উৎপাদন বাড়ানোর পেছনে স্থানীয় শুল্ক কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ক্যাসিওর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিন তাকানো বলেন, ‘ভারতে ঘড়ির ওপর উচ্চ শুল্ক রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও তীব্র। তাই ভারতে উৎপাদন বাড়ালে পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখা সহজ হবে।’

ভারতের ব্যবসা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাপনা কাঠামোয়ও পরিবর্তন আনছে ক্যাসিও। বিভিন্ন বিভাগ ও ইউনিটের নেতৃত্বে জাপান থেকে কর্মী পাঠানোর বদলে স্থানীয় কর্মীদের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।

পণ্যের কৌশলেও পরিবর্তন আনছে ক্যাসিও। আগে ভারতের বাজারে মূল ব্যবসা ছিল ক্যাসিও ব্র্যান্ডের ঘড়িকে ঘিরে। এখন জি-শক ঘড়ির প্রচারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্যাসিও ভারতের তুলনামূলক বড় ভোক্তা বাজার, স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ ও বাড়তে থাকা চাহিদাকে কাজে লাগাতে চাইছে। দোকানের সংখ্যা বাড়ানো, স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য আলাদা মডেল তৈরি—এ তিন কৌশলের মাধ্যমে দেশটিতে ব্যবসা দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও