ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল রাতে এ হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে রাশিয়া নীতিগতভাবে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। খবর বিবিসি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে দুই দেশের নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। গতকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠক করেন উইটকফ। এর আগের দিন তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসতে থাকায় ইউক্রেনের ওপর হামলা বাড়ায় রাশিয়া।
এদিকে গতকাল ট্রাম্প বলেছেন, ‘কয়েক দিন আগে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধের অবসান নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমার মনে হয়, আমরা এর কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি। বরং এখন হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।’
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন বলে বারবার মন্তব্য করলেও এখন পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
গত মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ। এরপর তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।
পুতিনের কাছে উইটকফ কী ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে বৈঠকের পর জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের জন্য ‘শক্তিশালী’ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ বলেছেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দেয়া ধারণাগুলো খুব একটা ‘কার্যকর’ নয়।
যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। রাশিয়া অভিযোগ করেছে, গত মাসে দেশটির সাধারণ নির্বাচনের সময় ইউক্রেনের ব্যাপক হামলার কারণে আলোচনায় বিঘ্ন ঘটে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেন পুতিন। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গতকাল সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় উশাকভ ইঙ্গিত দেন, আগামী ১০ নভেম্বরের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর রাজধানী আবুধাবিতে আলোচনার নতুন পর্ব অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাত শেষ হওয়ার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর আলোচনায় গুরুত্ব দিতে হবে।
গতকাল জেলেনস্কি বলেন, বর্তমান যুদ্ধফ্রন্টের অবস্থান অনুযায়ী যুদ্ধ স্থগিত রাখার কোনো চুক্তি হলে তাতে সম্মত হবে ইউক্রেন।
সাম্প্রতিক আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন উইটকফ। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেয়া কুশনার বলেন, ‘এখনো অনেক কঠিন কাজ বাকি রয়েছে। তবে এই যুদ্ধের গণ্ডি পেরিয়ে আসা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির কাঠামো গড়ে তোলার বাস্তব সুযোগ আমাদের সামনে রয়েছে।’
ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। সর্বশেষ তিনি মন্তব্য করেছেন, ইউক্রেনের হয়ে আলোচনার দায়িত্ব অন্য কারো নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম বাড়ছে। এ পরিস্থিতির জন্য রাশিয়ার তেল পরিশোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প।
কয়েক সপ্তাহ আগেই রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশগুলোর ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিয়ে একটি আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি ও ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতাও।