আইএলও প্রতিবেদন

কর্মক্ষেত্রে আফগান নারীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশে নেমেছে

২০২০ সালে দেশটির শ্রমশক্তির ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ নারী থাকলেও ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশে

তালেবান ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছরের মধ্যে আফগানিস্তানের শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ এক-তৃতীয়াংশেরও নিচে নেমে এসেছে। ২০২০ সালে দেশটির শ্রমশক্তির ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ নারী থাকলেও ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মেয়েদের শিক্ষা ও নারীদের কর্মসংস্থানের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নিষেধাজ্ঞাই দেশটির শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। বর্তমানে ইয়েমেনের পর আফগানিস্তানেই নারীর কর্মসংস্থানের হার বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে ‘চরমভাবে বাদ পড়ার’ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে আইএলও’র আফগানিস্তান কার্যালয়ের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক তিতে হাবিয়াকার বলেন, জনসংখ্যার এত বড় একটি অংশকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রেখে আফগানিস্তান একটি স্থিতিশীল শ্রমবাজার গড়ে তুলতে পারবে না।

অন্যদিকে, একই সময়ে আফগানিস্তানে পুরুষদের কর্মসংস্থান দ্রুত বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে ২০২২ সালের নিম্নস্তর থেকে দেশটির কর্মসংস্থান ১৪ শতাংশ বেড়ে ২০২৬ সালে ৮৫ লাখে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আইএলও।

তবে কর্মসংস্থানের এ প্রবৃদ্ধি দেশের দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। প্রতিবেশী পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক আফগান নাগরিক দেশে ফিরে আসায় শ্রমবাজারে চাপ আরো বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হলেও তাদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড কিছুটা বেড়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্য অনুযায়ী, তালেবান ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানে নারীদের মালিকানাধীন ব্যবসার সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। তবে এর পেছনে নারীদের অনেক পেশা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিও বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।

আইএলওর মতে, নারীদের শ্রমবাজারে ফিরিয়ে আনা শুধু সমতার প্রশ্ন নয়; দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ। নারী জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রেখে আফগানিস্তানের শ্রমবাজারের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আরও