সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ সীমান্তবর্তী অঞ্চল আবেইয়ের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে আমিয়েত বাজারে এ হামলার পর পাশের একটি তেলের ডিপোতে আগুন ধরে যায়। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক কর্মকর্তা। খবর এপি।
এ হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন আবেই প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রী ইয়োহান্না আকোল এনগর। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত ডিপোয় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
তবে সুদানের সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, দক্ষিণ সুদান থেকে আসা কয়েকটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। তার দাবি, ট্যাংকারগুলো আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) জন্য জ্বালানি নিয়ে যাচ্ছিল। এ হামলায় নিহতরা আরএসএফের সদস্য এবং জ্বালানি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে দাবি করেন তিনি। সেইসঙ্গে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
এদিকে মঙ্গলবার আমিয়েত বাজার ও তোদাচ এলাকার কাছে ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। এ সংক্রান্ত বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা যাচাইয়ের কাজ চলায় প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবেই নিরাপত্তা বাহিনী (ইউনিসফা) আহতদের জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধার তৎপরতা এবং আগুনের বিস্তার ঠেকাতে চিকিৎসাকর্মী, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াকারী দল মোতায়েন করেছে।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, আহত ২০ জনের বেশি মানুষকে আমেথ বেক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সেখানে দক্ষিণ সুদানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের সঙ্গে কাজ করছেন সংস্থাটির চিকিৎসাকর্মীরা। হাসপাতালটির এমএসএফের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যবস্থাপক ক্রিশ্চিয়ান লিনডাউয়ার বলেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। দগ্ধ রোগীদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, বাজারের একাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দেশটি। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সুদানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলছে। এর প্রভাবে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়েছে।