প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, চীন ও ভারতের একে অপরকে অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। দুই দিনের সফরে দিল্লি এসে এ কথা বলেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষের পর এই প্রথম কোনো চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করছেন। সেই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছিল। খবর বিবিসি।
ওয়াং ই বলেন, দুই দেশের সম্পর্কে এখন সহযোগিতার প্রতি ‘ইতিবাচক মনোভাব’ দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বলেন, ভারত ও চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি কঠিন সময়কে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বাণিজ্য, তীর্থযাত্রা এবং নদী সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করেছেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মঙ্গলবার ওয়াং ই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ সমাধানের জন্য আলোচনা হয়েছে। ওয়াং ই বলেন, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সীমান্তে এখন স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।‘ তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা যে বাধাগুলোর সম্মুখীন হয়েছি, তা আমাদের কারও স্বার্থের অনুকূলে ছিল না।‘
ওয়াং ই-এর এই সফরকে দুই পারমাণবিক ক্ষমতাধর প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলার লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর অক্টোবরে দুই দেশ বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে টহল দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এরপর থেকে দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরে তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু করেছে চীন। অন্যদিকে, চীনা পর্যটকদের জন্য ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করেছে ভারত। সে সঙ্গে, সীমান্তবর্তী নির্ধারিত গিরিপথ দিয়ে পুনরায় বাণিজ্য শুরুর ব্যাপারে আলোচনায় সম্মত হয়েছে দুই দেশ। সরাসরি বিমান পরিষেবাও এই বছর পুনরায় চালু হতে পারে বলেও জানা গেছে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার প্রেক্ষাপটে চীন ও ভারতের মধ্যে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা শুরু হয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনায় ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপ করেছেন, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াং ই-এর এই বৈঠকগুলো সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের ভিত্তি স্থাপন করবে। সেক্ষেত্রে সফরটি হবে সাত বছরের মধ্যে মোদির প্রথম চীন সফর।