মস্কোতে রহস্যজনক সফরে সিআইএ প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ অঘোষিত সফরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো গেছেন। গত মঙ্গলবার একটি মার্কিন সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজে তিনি সেখানে পৌঁছেন।

সফরের আগে ওয়াশিংটন বা মস্কো কোনো পক্ষই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। র‍্যাটক্লিফের সফরের উদ্দেশ্য এবং আলোচ্য বিষয় নিয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে এ শীর্ষ গোয়েন্দাপ্রধানের গোপন ও রহস্যময় মস্কো সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গতকাল নিশ্চিত করেছেন, মস্কোয় রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সিআইএ পরিচালক। যদিও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি। বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান পেসকভ। তার ভাষ্য, এ আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ককে ‘গভীর সংকট’ থেকে বের করে আনতে সহায়তা করবে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফরের খবর প্রথম প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। অনলাইন ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার থ্রি পরিবহন উড়োজাহাজ ওয়াশিংটনের কাছে জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ থেকে লাটভিয়ার রাজধানী রিগা হয়ে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে উড়োজাহাজটি আবার রিগায় ফিরে যায়। রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মস্কোর সড়কে কূটনৈতিক নাম্বার প্লেটযুক্ত গাড়িবহর চলাচলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সফরের আগে ইউক্রেনকে মস্কোয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। প্রতিনিধি দলটি রাশিয়া ত্যাগ না করা পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখতেও কিয়েভকে অনুরোধ করে ওয়াশিংটন। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

সিআইএ পরিচালক হিসেবে এটিই র‍্যাটক্লিফের প্রথম প্রকাশ্যে রাশিয়া সফর। এর আগে তিনি রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআরের প্রধান সের্গেই নারিশকিনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। ২০২৫ সালের মার্চে তাদের প্রথম টেলিফোন আলাপে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা এবং দুই দেশের মধ্যে সংঘাত কমাতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

র‍্যাটক্লিফের এ সফর এমন একসময়ে হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের প্রধান ইস্যুগুলোয় মস্কো ও কিয়েভের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ন্যাটোর দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে রাশিয়া প্রচলিত যুদ্ধের বাইরে বিভিন্ন গোপন বা অস্বীকারযোগ্য তৎপরতা বাড়াতে পারে। ফলে সফরটি উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ কিংবা মস্কোকে সতর্ক করার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ইরান যুদ্ধ ও তেহরানের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনও আলোচনায় উঠে এসে থাকতে পারে।

রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টিও সফরের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচিতে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্দি বিনিময় নিয়ে মস্কোর সঙ্গে আলোচনায় সিআইএ আগেও যুক্ত ছিল। র‍্যাটক্লিফ নিজে রুশ-মার্কিন নাগরিক কেসেনিয়া কারেলিনার মুক্তির আলোচনায় ভূমিকা রেখেছিলেন। সংস্থাটি ২০২৪ সালে সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচ ও সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলানের মুক্তি নিশ্চিত করা বন্দিবিনিময়েও যুক্ত ছিল।

এর আগে জো বাইডেন প্রশাসনের সময় তৎকালীন সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস ২০২১ সালের নভেম্বরে মস্কো গিয়ে ইউক্রেনে হামলা না চালাতে রাশিয়াকে সতর্ক করেছিলেন। কয়েক মাস পরই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।

আরও