নেপালে বুধি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ৯ জন

স্থানীয় সময় রোববার সকালে বন্যায় গোরখা জেলার চুমনুব্রি ও ধারচে গ্রামীণ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুমনুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার প্রশাসনিক প্রধান নারায়ণ প্রসাদ সাপকোটার বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, চুমনুব্রি পৌরসভার জগৎ বগর, সাল্লেরি ও ঘাট্টিখোলা এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়ি ভেসে গেছে।

নেপালের গোরখা জেলায় বুধি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যায় ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়ি ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক সেতু ও নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো। এ ঘটনায় অন্তত নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও এর কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। খবর কাঠমান্ডু পোস্ট।

স্থানীয় সময় রোববার সকালে বন্যায় গোরখা জেলার চুমনুব্রি ও ধারচে গ্রামীণ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুমনুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার প্রশাসনিক প্রধান নারায়ণ প্রসাদ সাপকোটার বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, চুমনুব্রি পৌরসভার জগৎ বগর, সাল্লেরি ও ঘাট্টিখোলা এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়ি ভেসে গেছে।

বন্যায় ন্যাকচেত ও সিরদিবাস এবং মাচ্ছাখোলা ও কেরাউজার সংযোগকারী ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। আরুঘাট গ্রামীণ পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগকারী সতি এলাকার লোহার সেতু এবং গোরখা ও ধাদিং জেলার সংযোগকারী আরুঘাট সেতুও ধ্বংস হয়েছে। ন্যাকচেত ও ফিলিম বাজারের মধ্যকার একটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং।

চুমচেত এলাকায় উঙ্গিলুং নদীর তীরে একটি ছাউনিতে অবস্থান করা পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সিরদিবাস থেকে চুমলিংয়ের দিকে যাওয়া চার থেকে পাঁচজন পশুপালকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা জগৎ এলাকা থেকে হেলিকপ্টারে ছয়জনকে উদ্ধার করেছে নেপালের সেনাবাহিনী। প্রাথমিক তথ্যে কোনো প্রাণহানির ঘটনা জানা যায়নি।

এছাড়া চুমনুব্রি-৩ এলাকার সাল্লেরিতে নির্মাণাধীন ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতার বুধি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশিবির ও কিছু সরঞ্জাম বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। মাচ্ছাখোলায় কয়েকটি বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে ধারচে-৩-এর সাল্লেরিতে প্রায় ২০ থেকে ২২টি বাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে।

নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চুমচেতের কাছে ভূমিধসে একটি শাখা নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ার পর হঠাৎ পানি ছেড়ে পড়ায় বন্যা হয়ে থাকতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্যাটেলাইট চিত্রে ওই এলাকায় বড় ধরনের ভূমিধসের চিহ্ন দেখা গেছে।

নদীর পানির উচ্চতা ওঠানামা করায় ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় বেনিঘাট পর্যন্ত বন্যার উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা দেয়া হয়েছে। মুগলিং, চিতওয়ান ও নওয়ালপরাসী এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

আরও