বাব আল-মান্দেবের কাছের এলাকা দখলে নিয়েছে ইয়েমেনি বাহিনী

ইয়েমেনের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান দখলে নিয়েছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। ইরান-সমর্থিত হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ঠেকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ থেকে তাদের সরিয়ে দিতে সরকারি বাহিনীর চলমান অভিযানের মধ্যে সোমবার এসব এলাকা দখলে নেয়া হয়। সামরিক ও সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

ইয়েমেনের অন্তত তিন সামরিক কর্মকর্তা ও এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নজরদারি করা ধুবাব জেলার বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনি বাহিনী। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় ওই এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। তবে হুথি-সমর্থিত গণমাধ্যম এর আগে সরকারি বাহিনীর ওই এলাকায় অগ্রগতির খবর অস্বীকার করেছিল।

এর আগে রোববার দেশটিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয় ইয়েমেন সরকার। প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি দেশকে ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত’ না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে লড়াই চললেও সবচেয়ে তীব্র সংঘাত হচ্ছে বাব আল-মান্দেবের উপকূলীয় এলাকা এবং তাইজ শহরের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলে। তাইজে সরকারি বাহিনীকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে হুথিরা।

এদিকে হুথি-নিয়ন্ত্রিত একটি সংবাদ সংস্থা সোমবার এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, তাইজ প্রদেশের আল-মাওয়াসিত জেলা থেকে সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে দিয়েছে হুথিরা। ওই এলাকায় ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমির বাড়ি রয়েছে বলেও জানানো হয়।

পাহাড়ি এ জেলা তাইজ থেকে এডেনের দিকে যাওয়া প্রধান সড়কের কাছাকাছি। সরকারি বাহিনীর জন্য শহরটিতে প্রবেশের এটিই শেষ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এ কারণেই ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাইজ এ সংঘাতের অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনে সংঘাত শুরু হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের উৎখাতের লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।

তবে কয়েক বছরের লড়াইয়ে সংঘাত কার্যত অচলাবস্থায় পরিণত হয়। অধিকাংশ যুদ্ধফ্রন্টে অগ্রগতি থেমে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয় দেশটিতে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও চলতি গ্রীষ্ম পর্যন্ত সেটি বহাল ছিল।

আরও