১৯৫০-৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধে অসংখ্য পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তাদের পুনর্মিলনের জন্য উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। আজ বৃহস্পতিবার তিনি এ প্রস্তাব দেন। আন্তঃসীমান্ত সম্পর্কের টানাপোড়েন সত্ত্বেও ইউন সুক-ইওলের সময়ে এটাই প্রথম কোনো সরাসরি প্রস্তাব। খবর রয়টার্স।
সামনেই শরৎকালীন উৎসব চুসিওক উপলক্ষে ছুটি। এর আগেই হঠাৎ করে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবের দ্রুত এবং হ্যাঁ-সূচক জবাবের প্রত্যাশা জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বয়মন্ত্রী কোওন ইয়ং-সে। তিনি বর্তমানে আন্তঃকোরীয় বিষয়ক দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। আলোচনার তারিখ, স্থান, বিষয়-সূচি নির্ধারণ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার কোনো পছন্দ থাকলে সিওল তা বিবেচনা করবে বলেও জানানো হয়।
কোওন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমরা আশা করি যে বিচ্ছিন্ন পরিবারের ইস্যুসহ মানবিক বিষয়ে একটি খোলামেলা আলোচনার জন্য উভয়পক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বসবেন।
কোরীয় যুদ্ধের পর ১৯৫৩ সাল থেকেই সীমান্ত নিয়ে দুই কোরিয়ার তিক্ত সম্পর্ক। নাগরিকদের সকল প্রকার সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মা-বাবা থেকে সন্তান, ভাই থেকে বোন, আত্মীয় থেকে আত্মীয়। দুই কোরিয়ার সরকার মাঝে মাঝে সংক্ষিপ্ত পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করেছিল। শেষবার হয়েছে ২০১৮ সালে। কিন্তু অধিকাংশ পরিবারই জানে না, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তাদের স্বজনরা কে জীবিত আছেন কিংবা কে মারা গিয়েছেন।
১৯৮৮ সালে ১ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ দক্ষিণ কোরিয়ার পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। কিন্তু এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত তাদের মধ্যে বেঁচে আছেন ৪৪ হাজার। উত্তর কোরিয়া এ প্রস্তাব গ্রহণ করবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত। কিয়ুংনাম ইউনিভার্সিটির ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল মনে করেন প্রস্তাব গ্রহণ করার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে পরিবারগুলোর মধ্যে পুনর্মিলন একটা মানবিক বিষয়। এক্ষেত্রে অন্তত কিছুটা বিশ্বাস থাকা জরুরি।
তবে কোওন জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ং গ্রহণ করুক আর না করুক, সিওল বারবার প্রস্তাব পাঠাতেই থাকবে।