মেঘভাঙা বৃষ্টিতে উত্তরাখণ্ডে আকস্মিক বন্যা: ৪ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ শতাধিক

প্রশাসনের আশঙ্কা, এই পানি দ্রুত বের করা না গেলে নিচু অঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলো ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে পড়বে।

মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়। এতে হিমালয়ের খিরগঙ্গা নদী হঠাৎ ফুলে-ফেঁপে ওঠে এবং পানির শক্তিশালী স্রোত নামতে শুরু করে। কাদাযুক্ত পানির এই ঢল তীব্র বেগে গ্রাম ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত করে।

মেঘভাঙা বৃষ্টির পর সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ভারতের হিমালয় ঘেঁষা উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উত্তরকাশী জেলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, শতাধিক মানুষ নিখোঁজ। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) হঠাৎ আছড়ে পড়া এক জলপ্রবাহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায় উত্তরকাশীর ধরালি গ্রামে। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা কাদাপানির স্রোতে ভেসে যায় সড়ক ও বহু ঘরবাড়ি। খবর বিবিসি।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়। এতে হিমালয়ের খিরগঙ্গা নদী হঠাৎ ফুলে-ফেঁপে ওঠে এবং পানির শক্তিশালী স্রোত নামতে শুরু করে। কাদাযুক্ত পানির এই ঢল তীব্র বেগে গ্রাম ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত করে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে আবহাওয়া ও রাস্তার ভয়াবহ ক্ষতির কারণে ত্রাণ ও উদ্ধারকারীদের অনেকেই এখনো দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে বিবিসিকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিখোঁজ। এখনো কোনো মৃতদেহ উদ্ধার হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে চারজনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও, সরকারি কর্মকর্তারা তা নিশ্চিত করেননি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কিছু ইউনিট মঙ্গলবার থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছে। তবে ইন্দো-তিব্বতীয় সীমান্ত পুলিশের একটি ক্যাম্প ও হরশিল সেনাঘাঁটির অন্তত ১০ জন সেনা সদস্যও নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বুধবার সকালে জানান, উত্তরকাশী থেকে প্রায় ১৩০ জন মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। তবে কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢাকা এলাকায় উদ্ধার কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

টানা বৃষ্টির কারণে প্রধান মহাসড়কের অনেক রুটই সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত। গঙ্গোত্রী থেকে প্রেরিত জাতীয় ও রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর কয়েকটি দল মঙ্গলবার থেকে ঘটনাস্থলে থাকলেও, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

প্রবল কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে ভাগীরথী নদীর একটি অংশ আটকে গেছে। এই নদীই নিচে গিয়ে ভারতের পবিত্র গঙ্গা নদীতে পরিণত হয়। ফলে সেখানে একটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা প্লাবিত করেছে আশপাশের এলাকা, এমনকি একটি সরকারি হেলিপ্যাডও তলিয়ে গেছে।

প্রশাসনের আশঙ্কা, এই পানি দ্রুত বের করা না গেলে নিচু অঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলো ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে পড়বে।

আরও