ইরানি জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ল
ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি টিকবে কি-না, তা নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগ আরো বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, জাহাজটি তাদের আরোপিত অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এর জবাবে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
ইরান জানিয়েছে, আগামীকাল শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির আগেই যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু করার আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তাতে তারা অংশ নেবে না।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কখনো অবরোধ তুলে নিচ্ছে আবার কখনো পুনর্বহাল করেছে ইরান। এ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনী গতকাল জানিয়েছে, ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ বন্দার আব্বাস বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল, তখন তারা জাহাজটির ওপর গুলি চালায়।
জাহাজ জব্দের ঘটনায় পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। ছবি: রয়টার্স
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘জাহাজটি এখন সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এতে কী রয়েছে তা আমরা পরীক্ষা করে দেখছি!’
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল। দেশটির এক সামরিক মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এ সশস্ত্র জলদস্যুতার বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশোধ নেবে—এ বিষয়ে আমরা সতর্ক করছি।’
এ উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারেও। সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। এমন আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান অবরোধ, হুমকিমূলক বক্তব্য এবং ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন ও ‘অতিরিক্ত দাবি’র কারণে তেহরান নতুন শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদরেজা আরেফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘অন্যদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রেখে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি সীমিত করা যায় না। সিদ্ধান্ত পরিষ্কার— সবার জন্য মুক্ত তেলবাজার, অথবা সবার জন্য বড় ধরনের খরচের ঝুঁকি।’
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি তার শর্ত প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে ইরানের প্রতিটি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের হুমকি তিনি সাম্প্রতিক সময় একাধিকবার দিয়েছেন।
ইরান আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
সূত্র: রয়টার্স