ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি ইরান

৯ আপডেট
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬

    পাকিস্তানে আজই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আজই (মার্কিন সময়) পাকিস্তানে এ ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

    ট্রাম্প জানান, যদি বড় কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়, তবে তিনি নিজেও ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের ইরানের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা এবং আমি ধরে নিচ্ছি এ পর্যায়ে কেউ কোনো ‘লুকোচুরি’ করছে না।

    তবে এ সমঝোতার জন্য একটি কঠিন শর্তারোপ করেছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আলোচনার প্রধান ও একমাত্র দাবিটি হলো—ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র লাভের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে।

    এর আগে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা সেখানে পৌঁছাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ প্রতিনিধি দলে জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি রয়েছেন স্টিভেন উইটকফ, জ্যারেড কুশনার।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬

    ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ইরান সংঘাত থেকে স্বতন্ত্র : লেবানিজ প্রেসিডেন্ট

    লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে ইরানের সাথে বিদ্যমান আঞ্চলিক সংঘাতের সমান্তরালে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ আলোচনাটি অন্য যেকোনো আলোচনার চেয়ে স্বতন্ত্র।

    তার মতে, লেবাননের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—হয় মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, অথবা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি টেকসই স্থিতিশীলতা অর্জন করা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "আমি আলোচনার পথটিই বেছে নিয়েছি এবং আমি আশাবাদী যে আমরা লেবাননকে রক্ষা করতে পারব।"

    ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে একটি সামরিক বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করে লেবানন সরকার। সংগঠনটিকে নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটি। তবে লেবানন ও ইরান সংকটকে একই সুতায় গাঁথতে আগ্রহী তেহরান। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে ইরান। এমনকি গত সপ্তাহে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করেছেন, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি’ হতে হলে সেখানে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার টাইমলাইন

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসলেও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির পথ এখনো অনিশ্চিত। চলতি মাসের শুরুতে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠক কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। পুনরায় আলোচনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী সংবাদ মিলছে:

    ৭ এপ্রিল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইরান যদি যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি না হয় তবে 'বিরাট বিপর্যয়' ঘটবে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

    ৮ এপ্রিল: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানান, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের কিছু স্থানে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্দীপনাকে ব্যাহত করছে।

    ১১ ও ১২ এপ্রিল: ইসলামাবাদে দুই দেশের কর্মকর্তারা ২১ ঘণ্টার এক দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠকে বসেন। তবে ১২ এপ্রিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি; পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। অন্যদিকে ইরানি মধ্যস্থতাকারী দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি এখনো 'ভালোভাবে বজায়' রয়েছে।

    ১৩ এপ্রিল: ইরানি বন্দরগুলোয় অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদের মধ্যে চুক্তি না হলে ফল 'সুখকর হবে না'।

    ১৭ ও ১৮ এপ্রিল: ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার কথা জানালেও চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোয় মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৮ এপ্রিল ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে 'আস্থা ভঙ্গের' অভিযোগ আনে। ট্রাম্প একে ইরানের 'চতুরতা' হিসেবে অভিহিত করলেও আলোচনা অব্যাহত আছে বলে দাবি করেন।

    ১৯ এপ্রিল: দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফরের কথা জানান ট্রাম্প। সিএনএন জানায়, ইরানের প্রতিনিধি দলও সেখানে যাচ্ছে, যদিও ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

    ২০ এপ্রিল: সবশেষ আজ সোমবার ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, এখন পর্যন্ত পরবর্তী দফার আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা কোনো সময়সীমা বা আলটিমেটামে বিশ্বাস করি না।

    সূত্র: সিএনএন

  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬

    দেশ পুনর্গঠনে মনোযোগ দিতে যুদ্ধের অবসান চান ইরানের প্রেসিডেন্ট

    সংঘাতের পথে না হেঁটে অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনে মনোযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অবসান চান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তেহরানে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, এ সংঘাত অব্যাহত রাখা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। রাষ্ট্রীয় সংহতি বজায় রাখতে জনগণের কাছে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা জরুরি।

    ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পেজেশকিয়ান বলেন, আমাদের অবশ্যই অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তবে এটিও স্বীকার করা প্রয়োজন যে, এই লড়াই চালিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য, প্রতিপক্ষের জন্য কিংবা এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

    তিনি আরো বলেন, বৈরিতা শেষ হওয়ার পর দেশ পুনর্গঠন, আর্থিক সম্পদ নিশ্চিত করা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে হবে ইরানকে।

    এছাড়া বিচার মন্ত্রণালয়ের এক সভায় দেশের বিদ্যমান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, মানুষকে দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে জানানো উচিত। ভুল তথ্য দেয়া বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি সমস্যা সমাধানে কোনো কাজে আসে না, বরং এটি জনগণের আস্থা নষ্ট করে।" দেশের সংহতি বজায় রাখতে স্বচ্ছতা ও সততার বিকল্প নেই।

    সূত্র: সিএনএন

  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬

    ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সর্বশেষ দফার আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে অংশ নেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো পরিকল্পনা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নির্ধারিত এ আলোচনাকে ঘিরে সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় অংশ নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এ দলে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও থাকার কথা রয়েছে।

    তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রোববার জানায়, তথাকথিত নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকা, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিমূলক বক্তব্যের কারণে তেহরান এই আলোচনায় অংশ নেয়ার পরিকল্পনা করছে না।

  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬

    মার্কিন নৌযানে ইরানের ড্রোন হামলা: প্রতিবেদন

    ওমান উপসাগরে নিজেদের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করার পর গতকাল একাধিক মার্কিন নৌযানের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, এমনটাই জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।

    ইরানের আধা-সরকারী বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, ‘টোউসকা’ নামের কনটেইনার জাহাজে মার্কিন বাহিনী ওঠার পরই এসব ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্টভাবে সামরিক নাকি বাণিজ্যিক জাহাজ—তা স্পষ্ট করা হয়নি।

    ইরান এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে ।

    অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা ঘটনাটি স্বীকার করলেও হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা বিস্তারিত ফলাফল সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    সূত্র: আনাদোলু

  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬

    সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

    ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরু করতে আবার পাকিস্তানে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে তারা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে এই তথ্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, গতবারের মতো এবারও মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ট্রাম্পের দুই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

    তবে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় ইরান অংশ নিবে কি-না, সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে না নিলে আলোচনায় অংশ নেবে না তেহরান।

    সোমবার মার্কিন নৌ বাহিনীর হাতে ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দের ঘটনার পর ইসলামাবাদের বৈঠকে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়টি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা

    সূত্র: বিবিসি

  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬

    ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজে সমর্থনের হার (অ্যাপ্রুভাল রেটিং) সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে—নতুন এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

    এনবিসি নিউজে গতকাল প্রকাশিত ওই জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের কাজে সমর্থনের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭ শতাংশে। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক তার কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে ৫০ শতাংশ তীব্রভাবে অসন্তুষ্ট।

    একই জরিপে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষ আংশিক বা দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন। আর ৬৭ শতাংশই এর বিরোধিতা করেছেন।

    জরিপ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে মার্কিন জনগণ দলীয়ভাবে বিভক্ত। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৮২ শতাংশ যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ সমর্থন করছেন।

    বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বেশি স্পষ্ট। জরিপে অংশ নেয়া প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৬১ শতাংশ মনে করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়া উচিত নয়। তবে ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশে।

  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬

    ইরানি জাহাজ জব্দের পর জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

    হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আজ সকালে এশিয়ার লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    দিনের শুরুতে ব্রেন্টের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ৬৯ সেন্টে ওঠে, যেখানে গত শুক্রবার ছিল ৯০ ডলার ৪০ সেন্টের নিচে। পরে কিছুটা কমলেও বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

    এ ঊর্ধ্বগতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি। তারা বলছে, ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল জাহাজটি। একই সময় যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। ইরানি গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয় একটিতে এবং অন্যটিতে অজ্ঞাত উৎস থেকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

    গত শনিবার মাত্র ১৯টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক গড় প্রায় ১৩৮টি। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ জরুরি মজুদ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বাড়াচ্ছে।

    সূত্র: আল জাজিরা

ইরানি জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ল

ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি টিকবে কি-না, তা নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগ আরো বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, জাহাজটি তাদের আরোপিত অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এর জবাবে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান।

ইরান জানিয়েছে, আগামীকাল শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির আগেই যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু করার আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তাতে তারা অংশ নেবে না।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কখনো অবরোধ তুলে নিচ্ছে আবার কখনো পুনর্বহাল করেছে ইরান। এ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনী গতকাল জানিয়েছে, ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ বন্দার আব্বাস বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল, তখন তারা জাহাজটির ওপর গুলি চালায়।

জাহাজ জব্দের ঘটনায় পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। ছবি: রয়টার্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘জাহাজটি এখন সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এতে কী রয়েছে তা আমরা পরীক্ষা করে দেখছি!’

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল। দেশটির এক সামরিক মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এ সশস্ত্র জলদস্যুতার বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশোধ নেবে—এ বিষয়ে আমরা সতর্ক করছি।’

এ উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারেও। সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। এমন আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান অবরোধ, হুমকিমূলক বক্তব্য এবং ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন ও ‘অতিরিক্ত দাবি’র কারণে তেহরান নতুন শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদরেজা আরেফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘অন্যদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রেখে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি সীমিত করা যায় না। সিদ্ধান্ত পরিষ্কার— সবার জন্য মুক্ত তেলবাজার, অথবা সবার জন্য বড় ধরনের খরচের ঝুঁকি।’

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি তার শর্ত প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে ইরানের প্রতিটি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের হুমকি তিনি সাম্প্রতিক সময় একাধিকবার দিয়েছেন।

ইরান আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও