মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপন সামরিক তথ্য ফাঁসের অভিযোগে ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, হেগসেথ একটি ব্যক্তিগত সিগন্যাল চ্যাট গ্রুপে গোপন সামরিক অপারেশনের সূচি ও তথ্য শেয়ার করেছিলেন। যেখানে তার স্ত্রী, ভাই এবং ব্যক্তিগত আইনজীবীও যুক্ত ছিলেন। খবর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
এই চ্যাট গ্রুপে তিনি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার সময়সূচি ও এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন। একই ধরনের তথ্য তিনি আরেকটি সিগন্যাল গ্রুপেও শেয়ার করেছিলেন, যেটি তৈরি করেছিলেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ এবং তাতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।
এই ঘটনায় হেগসেথের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। ইলিনয় রাজ্যের সিনেটর এবং যুদ্ধাহত সাবেক সেনাসদস্য ট্যামি ডাকওর্থ বলেন, ‘একজন প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে তার কাণ্ডজ্ঞানহীনতা সরাসরি আমাদের সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।‘
সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জ্যাক রিড বলেছেন, ‘একটি কমার্শিয়াল চ্যাট অ্যাপে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সামরিক গোপন তথ্য শেয়ার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আইনবিরুদ্ধ।‘
এর আগে রোববার পলিটিকো-তে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে পেন্টাগনের সাবেক মুখপাত্র জন উলিয়ট এই পরিস্থিতিকে ‘ফুল-ব্লোউন মেল্টডাউন’ বা ‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকেই প্রতিরক্ষা দপ্তরে ব্যাপক বিভ্রান্তি, কর্মী ছাঁটাই এবং অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব পেন্টাগনের কার্যকারিতা হুমকির মুখে ফেলেছে। ‘বর্তমানে পেন্টাগনের মনোযোগ যুদ্ধ নয়, বরং নাটক নিয়ে ব্যস্ত,’ তিনি লিখেন।
হেগসেথ এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘অখুশি প্রাক্তন কর্মচারীদের ছাঁটাই করার পরেই হঠাৎ করে এইসব ছড়ানো হচ্ছে। পেন্টাগন এখন যুদ্ধজয়ীদের হাতে ফিরে আসছে। এবং এই ধরনের মিডিয়া নাটক আমাদের থামাতে পারবে না।‘
হেগসেথের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। হোয়াইট হাউজে ইস্টার ইভেন্টে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘পিট দুর্দান্ত কাজ করছেন। হুতিরা যদি জানতে চায়, তারা বলবে কেমন করছে সে। এটা ফেক নিউজ, ক্ষুব্ধ লোকজনের সাজানো গল্প।‘
তবে হেগসেথকে ঘিরে বিতর্ক এখানেই থেমে নেই। প্রথম সিগন্যাল চ্যাট কেলেঙ্কারি তখনই প্রকাশ্যে আসে, যখন দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনের সম্পাদক জেফ্রি গোল্ডবার্গ ভুলক্রমে ওই গ্রুপে যুক্ত হন এবং সেখানে যুদ্ধ পরিকল্পনা ফাঁস হতে দেখেন।
অপরদিকে পেন্টাগনের বর্তমান মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন—‘কোনো গোপন নথি ওই চ্যাটে শেয়ার করা হয়নি। এটা পুরোনো খবরকে পুনরায় রঙচঙে করে উপস্থাপন।‘ তিনি আরো বলেন, ‘মিডিয়া ট্রাম্প-বিরোধী এজেন্ডা সামনে আনতে চায়, সত্য নয়।‘
বিশ্লেষকদের মতে, দুইটি পৃথক সিগন্যাল চ্যাটে সেনা অভিযান সম্পর্কিত স্পর্শকাতর তথ্য ছড়িয়ে পড়া হেগসেথের পদ রক্ষাকে কঠিন করে তুলছে। জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা নীতির শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এখন হেগসেথের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের অভ্যন্তরেও।