ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির সমস্ত অনুমোদিত তেলের ট্যাংকারের ওপর পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলা তাদের তেল বিক্রির অর্থ মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে। খবর এপি।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি এলাকায় চালানো একাধিক সামরিক হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে।
গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে ক্যারিবীয় সাগর থেকে একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল ছিল। ভেনেজুয়েলা সরকার এ ঘটনাকে ‘প্রকাশ্য চুরি’ এবং ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতার শামিল’ বলে আখ্যা দেয়।
মঙ্গলবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা তেলের অর্থ ব্যবহার করে মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধে অর্থ জোগাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৌবহর দিয়ে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে ফেলা হয়েছে… আজ আমি ভেনেজুয়েলায় যাতায়াতকারী সব নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকারের ওপর সম্পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দিচ্ছি।‘
যদিও এ অবরোধ কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানায়নি মার্কিন প্রশাসন।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণার আগে এক বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদ ও উগ্র ডানপন্থীরা আমাদের তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ দখল করতে চায়। আমরা আমাদের মাতৃভূমি রক্ষার শপথ নিয়েছি, এবং ভেনেজুয়েলায় শান্তিই বিজয়ী হবে।‘
ভেনেজুয়েলা সরকার ট্রাম্পের অবরোধ আদেশকে ‘ভয়াবহ ও অযৌক্তিক হুমকি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। রয়টার্সের বরাতে জানানো হয়, সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার সম্পদ লুট করতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান হোয়াকিন কাস্ত্রো এই অবরোধকে ‘সন্দেহাতীতভাবে যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে তেলবাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল রফতানি কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এরইমধ্যে ট্যাংকার জব্দের পর দেশটির তেল রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএতে সাম্প্রতিক সাইবার হামলা।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, এই সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে সফল হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো।