সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের কাছে হার স্বীকার ভুসিচের

ভুসিচ জানান, ২৫০ আসনের সংসদে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ১৩৫-১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট পেতে পারে ১০৫টি আসন। চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত না হলেও পরাজয় নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সার্বিয়ার আগাম সংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন দেশটির দীর্ঘদিনের নেতা আলেক্সান্দার ভুসিচ। গতকাল ভোটের নমুনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তিনি বলেছেন, বিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলন সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে যাচ্ছে। খবর আল জাজিরা।

ভুসিচ জানান, ২৫০ আসনের সংসদে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ১৩৫-১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট পেতে পারে ১০৫টি আসন। চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত না হলেও পরাজয় নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভুসিচ বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি।’

বেলগ্রেডভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ফো নেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুসিচের পরাজয় স্বীকারের ঘোষণার পর স্টুডেন্ট লিস্টের সদর দপ্তরে উল্লাস, উচ্ছ্বাস ও আনন্দাশ্রুর দৃশ্য দেখা যায়।

স্টুডেন্ট লিস্টের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রাদোমির সাইচিচ নির্বাচনী সদর দপ্তরে দেয়া বক্তব্যে বলেন, ‘প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব ভোটকেন্দ্রেই শিক্ষার্থীরা সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা জিতেছেন। আর তাদের সঙ্গে জিতেছে এমন এক আশা—ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার দেশ হতে পারে সার্বিয়া। এই রাত একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হোক।’

২০১২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ভুসিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে কিনা, তা নির্ধারণে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশজুড়ে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনটির উত্থান ঘটে। স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়।

দেশটির নির্বাচন কমিশন জানায়, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।

বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইয়েলেনা ভাসিলিয়েভিচ গত শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এসএনএসের নির্ভরযোগ্য ভোটারভিত্তি রয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সাধারণত ভোট দিতে যান না—এমন ভোটারদেরও কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।

তবে রোববারের ভোটে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ, ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিআরটিএ) জানায়, তাদের পর্যবেক্ষকরা ৫০০টি ভোটকেন্দ্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে ভোটার বা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছেন। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতার ঘটনাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা সেন্টার ফর ফ্রি ইলেকশনস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিইএসআইডি) জানায়, বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা সম্ভাব্য অনিয়মের প্রায় ২৬০টি অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ছিল ব্যালটের ছবি তোলা, দলবদ্ধভাবে ভোট দেয়া এবং পরিচয় যাচাইয়ে জটিলতা।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডর লিয়েন নির্বাচনে জয়ের জন্য স্টুডেন্ট লিস্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আইনের শাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দুর্নীতিবিরোধী লড়াই এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সংস্কারে সহায়তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রস্তুত। সার্বিয়ার ইইউ-তে যোগদান এগিয়ে নিতেও একসঙ্গে কাজ করতে চায় তারা।

২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনির অংশ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রায় দুই বছর ধরে চলা সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি ধীরে ধীরে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের অভিযোগ ঘিরে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। তবে ভুসিচ ও তার দল এসএনএস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিক্ষোভ থেকে গড়ে ওঠা ‘স্টুডেন্ট লিস্ট—স্টুডেন্টস উইন’ নির্বাচনে চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে প্রার্থী করে। তাদের অনেকেরই রাজনীতিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আন্দোলনটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দুর্নীতির অবসানের দাবিতে প্রচার চালায়।

প্রচলিত বিরোধী দলগুলোর কয়েকটি নিজেদের প্রার্থী না দিয়ে শিক্ষার্থীদের সমর্থন করে।

ভুসিচ গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।

আরও