আর্জেন্টিনার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের দাবি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আশাবাদের মাঝেও এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি দেশটির সাধারণ মানুষ। ডিয়েগো নাকাসিওর মতো মধ্যবিত্ত মানুষ, যারা একসময় নিজের কঠোর পরিশ্রমে বাড়ি-গাড়ি করেছিলেন, তারা এখন মাসের অর্ধেক পার হওয়ার আগেই পকেটে টান অনুভব করছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম খাবার কিনতেও তাদের এখন নিতে হচ্ছে চড়া সুদের ঋণ। এক সময়ের সচ্ছল পরিবারগুলো এখন ঋণের এক অন্তহীন চক্রে আটকা পড়েছে, যেখানে আগের দেনা মেটাতেই নতুন করে ধার করতে হচ্ছে। খবর আল জাজিরা।
এই সংকটের মূলে রয়েছে আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থবির হয়ে পড়া বেতন কাঠামো। যদিও সরকারি পরিসংখ্যানে মুদ্রাস্ফীতি কমে আসার আভাস দেয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। শিল্পোৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে ধস নামার ফলে অনেক কারখানা ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানের ওপর। পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার প্রায় অর্ধেক মানুষ এখন সঞ্চয় ভেঙে বা ধার করে সংসার চালাচ্ছে। সুপারমার্কেটগুলোয় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়, যা মূলত মানুষের আর্থিক অসহায়ত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। উচ্চবিত্ত শ্রেণির জন্য আমদানিকৃত বিলাসবহুল পণ্যের বাজার বড় হলেও, সাধারণ মানুষের থালায় খাবারের পরিমাণ ক্রমেই কমে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে, কেবল সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক ঠিক করলেই এই সংকটের সমাধান হবে না। লুসিয়া কাভালেরোর মতো অর্থনীতিবিদদের মতে, যতক্ষণ না মানুষের বেতন বাস্তব মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই 'ঋণের সংস্কৃতি' থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা একটি গভীরতর সামাজিক অস্থিরতার ইঙ্গিত। আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষ এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে, যেখানে হাড়ভাঙা খাটুনির পরও দিনশেষে দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা পাওয়াটা পরিণত হয়েছে এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জে।