ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সব ধরনের পদক্ষেপে নিঃশর্ত সমর্থন দেবে উত্তর কোরিয়া। শনিবার সফররত রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং–উন। খবর সিএনএন।
কোরিয়ার সরকারি কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ’র বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, উত্তর কোরিয়ার উপকূলীয় শহর ওয়োনসানে বৈঠক করেছেন কিম ও সের্গেই লাভরভ। এসময় কিম আবারো তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, রাশিয়ার যেকোনো পদক্ষেপে পিয়ংইয়ং নিঃশর্তভাবে সমর্থন ও উৎসাহ জানাবে।
পাশাপাশি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে কৌশলগত বৈঠক করেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুই। গত বছর সই হওয়া একটি অংশীদারত্ব চুক্তির অধীন আরো সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেন তারা। এর মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এমন সময়ে লাভরভের এই সফর হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি আলোচনায় ‘ফাঁকি’ দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে আরো সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া। এরপর মস্কোর প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন কিম জং উন। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া এবার আরো ২৫ থেকে ৩০ হাজার সেনা রাশিয়ায় পাঠাতে পারে। আগের বছর প্রায় ১১ হাজার কোরিয়ান সেনা রাশিয়ায় মোতায়েন হয়েছিল। ফলে পিয়ংইয়ং ধীরে ধীরে যুদ্ধের সরাসরি অংশীদার হয়ে উঠছে।
জাতিসংঘের ১১টি সদস্য রাষ্ট্রের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অন্তত ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯০ লাখ কামানের গোলা পাঠিয়েছে। এছাড়া স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে কার্গো প্লেন ও সৈন্য পরিবহণের জাহাজ চলাচল করছে। এমনকি উত্তর কোরিয়ার কামানের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল রুশ ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে, যা দুই দেশের সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের প্রমাণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমর্থনের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার কী পাচ্ছে, সেটাই বড় প্রশ্ন। দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট কেলি জানান, ‘আমরা চিন্তিত, রাশিয়া হয়তো গাইডেন্স প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি কিংবা ওয়ারহেড পুনঃপ্রবেশ প্রযুক্তির মতো গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচিতে উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা করছে।’