ভূমিকম্প

ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে: ইউএসজিএস

মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হওয়ার আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ। আর ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে—এমন আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।

পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি তা ১ লাখ পর্যন্তও পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। খবর আল জাজিরা।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, ভূমিকম্পের আঘাতে কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে। ওই অঞ্চলকে ‘‌দুর্যোগকবলিত এলাকা’ এবং ‘‌ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির সরকার। তবে এ রাজ্যের হতাহতের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে আসেনি। ওই এলাকায় ভবনের ছাদ ধসে পড়ার সময় মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার চিত্র ভিডিও ফুটেছে দেখা গেছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে ইউএসজিএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভয়াবহ এ দুর্যোগের প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বড় হতে পারে।

সংস্থাটির মতে, এ দুর্যোগের প্রভাব ব্যাপক হতে পারে এবং পরবর্তীতে শক্তিশালী আফটারশকও আঘাত হানতে পারে। মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হওয়ার আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ। আর ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে—এমন আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।

এছাড়া ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণ বা ‘লিকুইফ্যাকশন’-এরও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। মূলত ভূমিকম্পের সময় আলগা মাটির স্তর তরলের মতো আচরণ করলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকে লিকুইফ্যাকশন বলা হয়। এটি অনেকটা ভূমিধসের মতো ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রাতে পরপর দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক ভবনে ফাটল ধরেছে, কিছু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ভবন ধসে পড়েছে। ফলে সম্ভাব্য আফটারশক বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই রাস্তায় তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে আবার খোলা আকাশের নিচে গদি, মাদুর বা চাদর পেতে রাত কাটাচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্বেগ আরো বেড়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে দেশ ছেড়ে যাওয়া ৭৭ লাখের বেশি ভেনেজুয়েলান তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

এ ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষ এখনও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।

আরও