তেহরানের এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে সঠিক সমঝোতায় পৌঁছতে প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সাউথ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দিতে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর আনাদোলু।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা একটি চুক্তি করতে আগ্রহী, কিন্তু আমার মনে হয় সঠিক শর্তে সমঝোতায় আসার জন্য তারা এখনো প্রস্তুত নয়।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়নোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্প সীমিত হয়ে পড়েছে—এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধের প্রায় ছয় মাস পর বিপর্যস্ত ইরানি অর্থনীতির ওপর এসব ব্যবস্থার কী প্রভাব পড়ে, তা পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াশিংটন।
ইরানের বর্তমান সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, তাদের কাছে অর্থ নেই, নৌবাহিনী নেই, বিমান বাহিনী নেই। তাদের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, এর সংলগ্ন আকাশসীমা ও দক্ষিণ ইরানের আশপাশের ভূখণ্ড সম্পূর্ণ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বাণিজ্যিক জাহাজে অব্যাহত হামলার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক নিচে নেমে এসেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা 'ইউকেএমটিও' শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রণালীটি দিয়ে বর্তমানে নৌ-চলাচলের পরিমাণ যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কম।
এর আগে গত জুনে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা ও সামরিক তৎপরতা বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে শর্তাবলি বাস্তবায়ন ও প্রণালিতে ভবিষ্যৎ চলাচলের অধিকার নিয়ে দ্বিমতের কারণে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি ভেস্তে যায়।