‘ফাঁসির প্রশ্নই আসে না’, বিক্ষোভ দমন প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তার কাছে তথ্য এসেছে যে ইরানে বিক্ষোভ দমনে হত্যাকাণ্ডের মাত্রা কমে আসছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজ-এর ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বায়ার’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ‘ফাঁসি দেয়ার কোনো পরিকল্পনাই আমাদের নেই। ফাঁসির প্রশ্নই আসে না! বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর।‘

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বাড়ছে উত্তেজনা। বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়া হতে পারে—এমন জল্পনা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির মধ্যে এবার মুখ খুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়ার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। খবর রয়টার্স।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজ-এর ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বায়ার’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ‘ফাঁসি দেয়ার কোনো পরিকল্পনাই আমাদের নেই। ফাঁসির প্রশ্নই আসে না! বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর।‘

এর আগে মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘যদি তারা বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়া শুরু করে, তবে আপনারা এমন কিছু দেখবেন যা ভাবতেও পারবেন না। আমরা অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেব।‘

তবে বুধবার ট্রাম্পের সুর কিছুটা নমনীয় দেখা যায়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার কাছে তথ্য এসেছে যে, ইরানে বিক্ষোভ দমনে হত্যাকাণ্ডের মাত্রা কমে আসছে এবং বড় কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।

উল্লেখ্য, গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর থেকেই ইরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।

নরওয়ে ভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস সোসাইটি বলছে, ইরানে ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপে আরাঘচির এই মন্তব্যকে একটি কৌশলী অবস্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এবং অন্যদিকে তেহরানের কঠোর দমননীতি—এই দুইয়ের চাপে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আরও