আমিরাতে চালু ভিসা অ্যামনেস্টি বৈধতা পাচ্ছেন অবৈধরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়া ও জেল-জরিমানা ছাড়া দেশে ফেরার সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়া ও জেল-জরিমানা ছাড়া দেশে ফেরার সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে কেউ দেশ ছেড়ে যেতে চাইলেও বিনা বাধায় তা করতে পারবেন। গতকাল থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে আমিরাতে রেসিডেন্স বা ভিজিট ভিসায় এসে সে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যারা অবৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করছেন, তাদের ‘সাধারণ ক্ষমা’র আওতায় ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ দিল দেশটির সরকার। এরই মধ্যে গতকালই হাজারো অবৈধ বসবাসকারী এ সুবিধা নেয়ার জন্য সরকার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোয় ভিড় করছেন। খবর গালফ নিউজ ও খালিজ টাইমস।

গণমাধ্যমগুলো জানায়, ছয় বছর পর আবারো অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার সুযোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। এরই মধ্যে পাকিস্তান, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছে। গত বুধবার আবুধাবিতে নাগরিকত্ব, জাতীয়তা, শুল্ক ও বন্দর নিরাপত্তার কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ (আইসিপি) এ সাধারণ ক্ষমা উদ্যোগের বিস্তারিত জানায়। আইসিপি জানায়, দুই মাসের এ উদ্যোগের আওতায় আইন লঙ্ঘনকারীরা বৈধ ভিসা নিতে পারবেন অথবা কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা বা এক্সিট ফিস না দিয়েই আমিরাত ছেড়ে চলে যেতে পারবেন।

দুবাইভিত্তিক অভিবাসন ও বিদেশী নাগরিকসংক্রান্ত পরিদপ্তর (জিডিআরএফএ) জানায়, আবেদনকারীরা দুবাইয়ের বিভিন্ন অংশে স্থাপিত ৮৬টি আমের সেন্টারে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। এ কেন্দ্রগুলো আমের ২৪৭ নামের একটি আধাসরকারি সংস্থা পরিচালনা করে। পাশাপাশি আল আউইর শহরে অবস্থিত জিডিআরএফএ সেন্টারেও এ সেবা নেয়া যাবে। সাধারণ ক্ষমার আওতায় বৈধতার জন্য আবেদনকারীদের ছয় মাস মেয়াদি চাকরিসন্ধানী ভিসা দেবে আরব আমিরাত। এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বৈধতা অর্জন করতে হবে তাদের। সাধারণ ক্ষমা চলাকালে আউট পাস নিয়ে দেশে গেলে কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে না। ফের তারা দেশটিতে কোনো ধরনের সুযোগ পাবেন।

সাধারণ ক্ষমা চলাকালে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বৈধ পাসপোর্টের। কমপক্ষে সাত মাস মেয়াদ দরকার হবে পাসপোর্টে নতুন ভিসা লাগাতে, তাই আবেদনকারীকে আগেই পাসপোর্টের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীদের সেবা দিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশটিতে থাকা দুটি বাংলাদেশ মিশনের পাসপোর্ট উইং। স্থানীয় ইমিগ্রেশনের কাছে জমা থাকা বাংলাদেশীদের প্রায় ১ হাজার ৩০০ পাসপোর্ট এরই মধ্যে কনস্যুলেটের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানান তারা।

দুই মাসব্যাপী এ সেবা গ্রহণের জন্য দুবাইয়ের ভিসাধারীদের আমিরাতে প্রত্যেক প্রদেশের সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশনে যেতে হবে। এরপর ইমিগ্রেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশটির সরকার অনুমোদিত তাসহিল বা আমের সেন্টারে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

জিডিআরএফএর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মেদ আহমেদ আল মাররি জানান, এ সাধারণ ক্ষমা প্রকল্পে ‘আরব আমিরাতের অবলম্বন করা মানবিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতা, এ দেশে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের প্রতি সহানুভূতি, সম্মান ও আইনের শাসনের প্রতিফলন ঘটেছে।’

তিনি এ প্রকল্পের বিষয়ে শুধু আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে তথ্য জানার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, জিডিআরএফএর কলসেন্টারের নম্বর ৮০০৫১১১, যা দিনে ২৪ ঘণ্টা ও সপ্তাহে সাত দিনই চালু থাকে।

আরও