হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ২ নাবিক নিখোঁজ

হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর দুই নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওমান। খবর বিবিসি।

ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের ১ দশমিক ৩ নটিক্যাল মাইল বা ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থানকালে হামলার শিকার হয় পানামার পতাকাবাহী এল গাইয়া নামের ট্যাংকারটি। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগার পর মঙ্গলবার সেটিকে ওমানের একটি বন্দরের দিকে টেনে নেয়া হয়।

এর আগে সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করে, ট্যাংকারটি নৌমাইনে আঘাত হানলে এতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি একটি নিয়ন্ত্রিত ও অনিরাপদ নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে বলেও জানিয়েছে তারা।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, গত মাসে ট্যাংকারটি ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং গত সপ্তাহের শেষে ফের একটি ড্রোন হামলার শিকার হয়।

এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, রোববার ভোরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর তারা পেয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতেও হরমুজ প্রণালিতে একই ধরনের একটি ঘটনায় ইরান ও সৌদি আরব পরস্পরবিরোধী দাবি করেছিল। সৌদি মালিকানাধীন একটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে হামলায় দুই ফিলিপাইনি নাবিক নিহত হন।

আইআরজিসি দাবি করেছিল, সিডর নামের জাহাজটি নৌমাইনে আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটিকে ইরান হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছিল। সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদনেও বলা হয়, মুসান্দামের উত্তরে জাহাজটিতে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে।

আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় নিশ্চিত হওয়া ৭৯টি ঘটনায় অন্তত ২২ নাবিক নিহত হয়েছেন।

আরও