খামেনির উদ্দেশ্যে ট্রাম্প

ইরান পরমাণু কর্মসূচি শুরু করলে অবশ্যই বোমাবর্ষণ করা হবে

ট্রাম্প লেখেন, ‘চূড়ান্ত কিছু করা’ থেকে ইসরায়েলকে সরে আসতে বলেছিলেন তিনি। খামেনির উদ্দেশে বলেন, ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের তিনটি ক্ষতিকর পারমাণবিক স্থাপনাও ধ্বংস হয়ে গেছে। এটাও জানতাম, তিনি কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন। আমি ইসরায়েল ও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দিয়ে তার জীবন শেষ করে দিইনি।

ইসরায়েলের সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান জয় পেয়েছে- দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এ দাবির তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, আবার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি চালুর চেষ্টা করলে তার দেশ ইরানে 'অবশ্যই' বোমাবর্ষণ করবে। খবর আল-জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে খামেনির বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, খামেনিকে এক ‘সহিংস’ ও ‘অপমানজনক’ মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আগের দিন এক বক্তব্যে ইরানের ‘বিজয়’ দাবি করার সময় খামেনি ‘নির্লজ্জ ও বোকামিপূর্ণ’ মিথ্যা বলেছেন।

যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রথম ভিডিও বার্তায় খামেনি বলেন, তাদের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে তেহরান মূলত ওয়াশিংটনের গালে ‘সজোরে চড়’ মেরেছে,

এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, ‘চূড়ান্ত কিছু করা’ থেকে ইসরায়েলকে সরে আসতে বলেছিলেন তিনি। খামেনির উদ্দেশে বলেন, ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের তিনটি ক্ষতিকর পারমাণবিক স্থাপনাও ধ্বংস হয়ে গেছে। এটাও জানতাম, তিনি কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন। আমি ইসরায়েল ও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দিয়ে তার জীবন শেষ করে দিইনি।

মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে কি না কিংবা কতটুকু ক্ষতি হয়েছে- তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। এসব হামলার ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছে; তার সঙ্গে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিস্তর ফারাক দেখা গেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, মার্কিন হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তেহরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা যদি দমানো না যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার কথা বিবেচনা করবেন কি না- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, অবশ্যই। এটি প্রশ্নাতীত।

আরও