ইউক্রেনের চারদিক থেকে সামরিক অভিযান আরো জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শনিবার এক বিবৃতিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, কিয়েভে রুশ সেনাদের কার্যত পরাস্ত করে রেখেছে ইউক্রেন সেনারা। তবে, অন্য কিছু শহরে ইউক্রেনিয়রা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যেই দেশটির চারপাশ থেকে হামলার নির্দেশ দিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনী।
ইউক্রেনের সঙ্গে সংলাপ নিয়ে আলোচনা হলেও পরে প্রতিবেশী দেশ বেলারুশে বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইউক্রেন। এরপরই মূলত ইউক্রেনে চলমান আক্রমণ সবদিক থেকে আরো জোরদার করতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ রুশ প্রশাসন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইগোর কোনাশেঙ্কোভ জানান, ইউক্রেন আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর, বর্তমান পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কাজ করছে রাশিয়া। তাই সবদিক থেকে দেশটির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরো জোরদার করতে সামরিক বাহিনীর সকল ইউনিটকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, কিয়েভের কাছকাছি ভ্যাসিলকিভ শহরের একটি তেল ডিপোতে আঘাত হানে রাশিয়ার মিসাইল। হামলার পর ডিপোতে আগুন ধরে যায়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভ্যাসিলকিভ শহরের মেয়র নাতালিয়া বালাসিনোভিচ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শত্রুরা আমাদের সবকিছু ধ্বংস করে দিতে চায়।
এছাড়া রাজধানী কিয়েভের ওপর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলছেন, রাজধানী কিয়েভ, দক্ষিণের ওডেসা আর উত্তর পূর্বের খারকিভ শহরে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়ছেন ইউক্রেন সেনারা। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ শহর মেলিতোপোল দখল করে নিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে রাশিয়ার জোরালো হামলার মুখেও কিয়েভে বেশ শক্ত প্রতিরোধের মুখেই পড়েছে রুশ বাহিনী।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর এক ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি রুশ সেনাকে হত্যা করেছে সেনারা। প্রায় ২০০ রুশ সৈন্যকে বন্দি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪টি যুদ্ধবিমান, ৮টি হেলিকপ্টার ও ১০২টি ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাশিয়ার আরো দুটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ইউক্রেন। বিমান দুটিতে ৩০০ জন রুশ সেনা ছিল বলে জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত ১৯৮ জন নাগরিক মারা গেছেন।