ট্রাম্পের নির্দেশে গ্রিনহাউস গ্যাস সংক্রান্ত ঐতিহাসিক নীতি বাতিল

সম্প্রতি ওভাল অফিসে এক ঘোষণায় তিনি এ ‘এনডেঞ্জারমেন্ট ফাইন্ডিং’ বা ‘বিপজ্জনক ঘোষণা’ নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গত প্রায় দুই দশক ধরে চলা পরিবেশ রক্ষার আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তি এক বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়ল। মূলত এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই যুক্তরাষ্ট্রে যানবাহন ও শিল্পকারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হতো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তন রোধের একটি ঐতিহাসিক নীতি বাতিল করেছেন। গ্রিনহাউস গ্যাস সংক্রান্ত নীতিটি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় প্রথম প্রবর্তিত হয়। খবর বিবিসি।

সম্প্রতি ওভাল অফিসে এক ঘোষণায় তিনি এ ‘এনডেঞ্জারমেন্ট ফাইন্ডিং’ বা ‘বিপজ্জনক ঘোষণা’ নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গত প্রায় দুই দশক ধরে চলা পরিবেশ রক্ষার আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তি এক বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়ল। মূলত এ নীতির ওপর ভিত্তি করেই যুক্তরাষ্ট্রে যানবাহন ও শিল্পকারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হতো।

হোয়াইট হাউস এ পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওবামা আমলের ওই নীতিটি ছিল মার্কিন গাড়ি শিল্পের জন্য একটি বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত। এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য গাড়ির দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পের মতে, এই নীতি বাতিলের ফলে গাড়ি নির্মাতাদের খরচ প্রতি গাড়িতে প্রায় ২ হাজার ৪০০ ডলার কমবে, যা সরাসরি মার্কিন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি এ নীতিকে ‘গ্রিন নিউ স্ক্যাম’ বা পরিবেশ রক্ষার নামে এক বড় প্রতারণা হিসেবেও বর্ণনা করেন।

তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা এবং কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বারাক ওবামা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানান, এ সুরক্ষা কবচটি সরিয়ে দেয়ার ফলে মার্কিন নাগরিকরা আরো বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারাবে আমেরিকা। তিনি অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল শিল্পের মুনাফা বাড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে।

২০০৯ সালে মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেনসহ প্রধান ছয়টি গ্রিনহাউস গ্যাস জনস্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ বলে ঘোষণা দিয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেস জলবায়ু আইন নিয়ে বিভক্ত থাকায়, এই আইনি ঘোষণাটিই ছিল পরিবেশ রক্ষার প্রধান হাতিয়ার। এর মাধ্যমেই তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিষাক্ত নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিটি ছিল মার্কিন জলবায়ু আইনি কাঠামোর মূল ভিত্তি।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে জলবায়ু রক্ষার লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত নেয়া সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখছে। এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডের বিশ্লেষকদের মতে, নির্গমন নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে বায়ুদূষণ বাড়বে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে হাজার হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হতে পারে এবং কয়েক কোটি মানুষ অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগতে পারেন। তারা এরই মধ্যে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন চায় এই বিষয়টি দ্রুত সুপ্রিম কোর্টে যাক। এতে করে, সুপ্রিম কোর্ট এই নীতি বাতিলের পক্ষে রায় দিলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো সরকার সহজে আর এই পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ আইন ফিরিয়ে আনতে পারবে না। এতে করে মার্কিন গাড়ি শিল্প সাময়িকভাবে উৎপাদন খরচ কমাতে পারলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যেতে পারে। কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো এখন পরিবেশবান্ধব ও কম জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে নতুন করে পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও