দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক পর ‘সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্র’র তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এ সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খবর আল জাজিরা।
গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়াকে এ তালিকা থেকে বাদ দেয়ার পরিকল্পনার কথা কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। এরপর ৪৫ দিনের কংগ্রেসীয় পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কর্মকাণ্ড থেকে সিরিয়াকে পুরোপুরি দূরে রাখতে আল-শারার নেয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিন আল-শারার নেতৃত্বাধীন আল-নুসরা ফ্রন্টের ওপর থাকা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা-ও প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংগঠনটি আগে আল-কায়েদার সিরিয়া শাখা হিসেবে কাজ করত এবং পরে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামে পরিচিত হয়। আল-শারা একসময় এ সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের বেদনাদায়ক অতীতের একটি অধ্যায় পেছনে ফেলে এখন উন্নয়ন, পুনর্গঠন ও রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়ে যেতে চায় সিরিয়া।
১৯৭৯ সালে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের অভিযোগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদের সরকারকে সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্রের তালিকায় রাখে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তার ছেলে বাশার আল-আসাদের শাসনামলেও সিরিয়ার নাম ওই তালিকায় ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আল-শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের হাতে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে।
সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্রের তালিকায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি ও বিক্রি, বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য কিছু পণ্য এবং আর্থিক লেনদেনে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। ওয়াশিংটন সিরিয়ার ওপর বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ তুলে নেয়ার পরও তালিকাভুক্তির কারণে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দেশটিতে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি ছিল।
মার্কিন সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংযোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ওয়াশিংটনে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের নতুন সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে ইরান ও রাশিয়ার প্রভাববলয় থেকে দূরে এনে দেশটির সঙ্গে নতুন কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।