জাপানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (এপ্রিল-মার্চ) গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংবেদনশীল স্থাপনা এবং দূরবর্তী দ্বীপাঞ্চলগুলোর আশপাশে মোট ৩ হাজার ৪৯৮টি সম্পত্তি কিনেছে বিদেশী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক সম্পত্তিরই ক্রেতা ছিল চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান। জাপান সরকারের আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়।
জাপানে ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া একটি আইনের আওতায় বেশ কিছু নিরাপত্তা সংবেদনশীল স্থানকে ‘মনিটরড এরিয়া’ (পর্যবেক্ষণাধীন এলাকা) ও ‘স্পেশাল মনিটরড এরিয়া’ (পর্যবেক্ষণাধীন বিশেষ এলাকা) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এমন ৫৮৩টি স্থানের আশপাশে সম্পত্তি ক্রয় করেছে বিদেশীরা। এর মধ্যে দেশ বা অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি কিনেছে চীনা ক্রেতারা— ১ হাজার ৬৭৪টি। তাইওয়ান দ্বীপের বাসিন্দারা কিনেছে ৪১৪টি সম্পত্তি। আর দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা কিনেছে যথাক্রমে ৩৭৮ ও ২১১টি সম্পত্তি।
জাপান সরকারের সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশীরা জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৩৭টিতে নিরাপত্তা সংবেদনশীল এলাকার আশপাশে মোট ১ হাজার ৭৪৪টি জমি ও ১ হাজার ৭৫৪টি ভবন ক্রয় করেছে। এসব স্থাপনা ও দূরবর্তী দ্বীপাঞ্চলের আশপাশের রিয়েল এস্টেট যাতে সরকারি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলার মতো কোনো কাজে ব্যবহার না হয়, এমন লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত আইনটির অধীনে এটি দ্বিতীয় জরিপ।
এর আগে গত বছরে প্রকাশিত সমীক্ষা প্রতিবেদনে বিদেশীদের ৩৭১টি সম্পত্তি কেনার তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে এখনো এসব স্থানে সম্পত্তি কেনা-বেচায় সতর্কবার্তা বা বিক্রিত সম্পত্তির ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়নি।
ক্যাবিনেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশিদের কেনা বহু সম্পত্তিই ছিল অ্যাপার্টমেন্ট বা কন্ডোমিনিয়াম। ধারণা করা হচ্ছে, অনেক চীনা ক্রেতা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বৃহত্তর টোকিও এলাকায় এসব সম্পত্তি কিনেছেন।
প্রিফেকচারভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি কেনাকাটা হয়েছে টোকিওতে— ১ হাজার ৫৫৮টি। এর মধ্যে দেশটির গ্রাউন্ড সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের মেডিক্যাল সার্ভিস স্কুল, অ্যাকুইজিশন, টেকনোলজি অ্যান্ড লজিস্টিকস এজেন্সির নেভাল সিস্টেমস রিসার্চ সেন্টার এবং নিউ সানো ইউএস ফোর্সেস সেন্টারের আশপাশের এলাকার সম্পত্তিও রয়েছে। বিদেশীরা আর যেসব প্রিফেকচারে নিরাপত্তা সংবেদনশীল এলাকা বা স্থাপনার আশপাশে সম্পত্তি ক্রয় করেছে, সেগুলোর মধ্যে টোকিওর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে কানাগাওয়া (৩৩৯টি), চিবা (২৩৫), হোক্কাইডো (২১৭) ও ফুকুওকা (২১১)।
জাপান সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বনাঞ্চল বা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত জমি ও সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আরো কঠোর করা হবে। এর আওতায় নিবন্ধন ফরমে কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জাতীয়তা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া বনাঞ্চল কেনার সময় ব্যক্তি পর্যায়ের ক্রেতাদেরও তাদের জাতীয়তা জানানোর নিয়ম করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের ইকোনমিক সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিমি অনোদা বলেন, ‘আমরা এ পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিক তদন্ত করব এবং স্থাপনার কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেব।’
জাপানের আইন অনুযায়ী, দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণাধীন স্থাপনার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা জমি ও ভবন দেশটির ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণমালার আওতায় পড়ে। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অর্থবছরে নতুন করে নিবন্ধিত মালিকানার মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২৭টি ভূ-সম্পত্তিকে এ জরিপের আওতায় আনা হয়।