নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার মধ্যে ক্লাস বন্ধ করে ৯০০ শিক্ষার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। মাত্র ১০ মিনিট দেরি হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ কেউই হয়তো বেঁচে থাকতেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৬০০। উজান থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে চারটি সতর্কবার্তা পাওয়ার পর তিনি ক্লাস বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গেই সব শিক্ষার্থীকে উঁচু স্থানে সরিয়ে নেন।
বন্যার পানি আসার সময় নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরের একটি ছাত্রাবাস ভবন পানিতে ডুবে যেতে দেখেন দাওয়াদি। ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউনিশা বলেন, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তারা বেঁচে যান। তিন দিন পর পরিবারের সঙ্গে তার দেখা হয়।
ধাদিংয়েও মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে শ্রেণিকক্ষ ছাড়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী বেঁচে যায়। শিক্ষকদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশে আরো অনেকেই রক্ষা পায়।
বন্যায় অন্তত ৬৯টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ ২ হাজার ৫০২ জনের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশী। আর মৃতের সংখ্যা ৭৮১।
হিমালয়ের নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে পানি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে বুধবার এ দুর্যোগ শুরু হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা। জলবায়ু সংকটে নেপালের মানুষ তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিশ্বব্যাপী উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
—দ্য গার্ডিয়ান