সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দিনে কিয়েভ ও খারকিভে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে মস্কো। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, গতকাল সকালে রাশিয়া ইউক্রেনের দুটি বৃহত্তম শহর, কিয়েভ ও খারকিভকে লক্ষ্য করে ৩৯৬টি ড্রোন ও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে এ হামলা চালায়। কিয়েভ কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘আরেক রাতের রাশিয়ান সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, ‘পুতিন শান্তি আলোচনাকে ব্যঙ্গ করে এমন নৃশংস ও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ক্ষেপণাস্ত্র কেবল আমাদের মানুষকে নয়, আলোচনার টেবিলকেও আঘাত করেছে।’
হামলার পর কিয়েভ ও অন্য শহরে তাপ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটে। বন্ধ হয়ে যায় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহও। কর্মকর্তারা জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
কিয়েভের প্রকৌশলীরা অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকগুলোয় তাপমাত্রা সরবরাহ ব্যবস্থার পুনঃসংযোগ স্থাপনে হিমশিম খাচ্ছেন। শনিবার সকালে শহরের ছয় হাজারটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে প্রয়োজনীয় তাপ ছিল না। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ১২ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন, যার মধ্যে শুধু কিয়েভেই রয়েছে আট লাখ। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, হামলার পরপরই ইউক্রেনের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এলাকা জরুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
হামলার বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘দাভোসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হওয়া চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।’ জেলেনস্কি ও ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে সাক্ষাৎ করেন এবং ইউক্রেনের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও পরবর্তী সময়ে কোনো নেতা স্পষ্টভাবে বলেননি, কী বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।
হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন ইউক্রেনের রাজধানীতে শীতের প্রভাবে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তাইমুর তকচেনকো জানিয়েছেন, অন্তত চারটি জেলায় হামলা হয়েছে।
কিয়েভ এ বছরের মধ্যে দুবার রাতভর ব্যাপক হামলার মুখোমুখি হয়েছে, যা শত শত আবাসিক ভবনের বিদ্যুৎ ও তাপমাত্রা সরবরাহ ব্যবস্থাকে বন্ধ করে দিয়েছে। জরুরি কর্মীরা এখনো বাসিন্দাদের জন্য পরিষেবা পুনঃস্থাপনে নিযুক্ত রয়েছেন। ওই অঞ্চলের রাতের তাপমাত্রা অনেক নিচে নেমে গেছে। খারকিভ শহরের মেয়র টেলিগ্রামে লিখেছেন, ড্রোনগুলো শরণার্থীদের আবাসিক ঘর, একটি সাধারণ হাসপাতাল এবং অন্য একটি মাতৃ হাসপাতালে আঘাত হেনেছে।