‘ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড আইন’ ইসরায়েলে, বিশ্বজুড়ে নিন্দা

আইনটি এমন এক সময় পাস হলো, যখন পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে, হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গ্রেফতার হচ্ছেন এবং গাজায় নিয়মিত হামলা করছে ইসরায়েল

মানবাধিকার সংগঠন ও ফিলিস্তিনি নেতারা ইসরায়েলের নতুন একটি আইন পাসের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এ আইনে প্রাণঘাতী হামলায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তারা একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং স্বভাবগতভাবে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। খবর আল জাজিরা।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে গতকাল পাস হওয়া এ আইনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নাগরিক হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ফাঁসি হবে ডিফল্ট বা নির্ধারিত শাস্তি।

আইনটি জোরালোভাবে সমর্থন করেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। আইনটি ৬২-৪৮ ভোটে পাস হওয়ার পর তাকে সংসদ কক্ষে শ্যাম্পেনের বোতল খুলে উদযাপন করতে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি।’ আন্তর্জাতিক চাপ ও আইনটি প্রত্যাহারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানুষদের বলছি— আমরা ভয় পাই না, আমরা নতি স্বীকার করব না।’

আইনটি এমন এক সময় পাস হলো, যখন পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে, হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গ্রেফতার হচ্ছেন এবং গাজায় নিয়মিত হামলা করছে ইসরায়েল। অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল জানিয়েছে, এ আইনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে তারা।

ইউএন হিউম্যান রাইটস অফিস আইনটি ‘অবিলম্বে বাতিল’ করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, জাতিসংঘ সব পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে। এ আইন বাস্তবায়ন করলে তা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অপমানজনক শাস্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে।

এছাড়া তারা বলেছে, আইনটি বর্ণভিত্তিক বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টিকে নিষিদ্ধ করার আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনকে আরো গভীর করবে।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ আইনকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই উল্লেখ করে বলছে, আইনটি আবারো দেখিয়ে দিল ইসরায়েলের উপনিবেশিক ব্যবস্থার ধরন, যা আইনগত পদক্ষেপের আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে।

হামাস এ আইনকে ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে উল্লেখ করেছে, যা ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনিদের জীবনের জন্য হুমকি তৈরি করবে। তারা বলেছে, এ সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে দখলদার ইসরায়েল ও তার নেতারা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করছে।

এছাড়া প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস, অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, কাউন্সিল অব ইউরোপ, আয়ারল্যান্ড ও ইতালি।

আরও