ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের হুঁশিয়ারি, সমঝোতা ছাড়াই শেষ রুশ-মার্কিন বৈঠক

‘রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না, কিন্তু যদি ইউরোপ শুরু করে, তবে আমরা এখনই প্রস্তুত। ইউরোপ যুদ্ধ শুরু করলে তা এত দ্রুত শেষ হবে যে আলোচনার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না।‘

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ক্রেমলিনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। খবর রয়টার্স।

মঙ্গলবার রাতের কূটনৈতিক বৈঠককে ঘিরে তুলনামূলক হতাশাজনক মূল্যায়ন আসে পুতিনের কাছের এক সহকারীর কাছ থেকে। এর আগে ক্রেমলিনে আলোচনার জন্য স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার পৌঁছালে পুতিন আক্রমণাত্মক সুরে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অভিযোগ তোলেন ইউরোপীয় শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে। তার দাবি—যুদ্ধে ইতি টানার জন্য যে ‘ইউরোপীয় দাবিগুলো’ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো রাশিয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

কোন কোন ইউরোপীয় দাবি গ্রহণযোগ্য নয়—সেটি পুতিন স্পষ্ট করে বলেননি। ইউরোপীয় দেশগুলো সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘তারা যুদ্ধের পক্ষেই দাঁড়িয়ে আছে।‘

পুতিন বলেন, ‘ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে ইউক্রেন ইস্যুতে শান্তি অর্জন করতে দিচ্ছে না।‘ তিনি আরো বলেন, ‘রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না, কিন্তু যদি ইউরোপ শুরু করে, তবে আমরা এখনই প্রস্তুত। ইউরোপ যুদ্ধ শুরু করলে তা এত দ্রুত শেষ হবে যে আলোচনার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না।‘ ব্ল্যাক সিতে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এর ট্যাঙ্কারের ওপর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জবাবে তিনি ইউক্রেনের সমুদ্রপথ বন্ধ করারও হুমকি দেন।

পুতিনের এ বক্তব্যের ফলশ্রুতিতে পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকের পরও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।

মস্কোতে মধ্যরাত পেরিয়ে বৈঠক শেষ হলে পুতিনের শীর্ষ উপদেষ্টা ইউরি উসাকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। সামনে প্রচুর কাজ বাকি।‘ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাবে পুতিন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। আলোচনার পর উইটকফ মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে হোয়াইট হাউজকে ব্রিফ করেন।

উসাকভ বলেন, পুতিন–ট্রাম্প বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে আলোচনা ‘গঠনমূলক’ হয়েছে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ‘বৃহৎ সুযোগ’ রয়েছে। আলোচনায় রাশিয়ার দাবিকৃত ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল নিয়ে কথাবার্তা হয়। তার ভাষায়, ‘কিছু মার্কিন খসড়া প্রস্তাব মোটামুটি গ্রহণযোগ্য, তবে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন। কিছু প্রস্তাবনা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় তবে কাজ চলতে থাকবে।‘

এদিকে, ডাবলিনে জেলেনস্কি বলেন, মস্কোর আলোচনার ফলাফলের ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। তবে তিনি আশঙ্কা করছেন যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রক্রিয়া থেকে আগ্রহ হারাতে পারে। তার ভাষায়, ‘সহজ সমাধান নেই। সবকিছু স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। ইউক্রেনকে পাশ কাটিয়ে কোনো খেলা চলবে না।‘

উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, পুতিনের বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি যুদ্ধ থামানোর জন্য প্রস্তুত নন।

আরও