দুই দিক থেকে আক্রমণ করে গাজা শহরের কেন্দ্রের দিকে এগোচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। তাদের ক্রমাগত আক্রমণে শহরের বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে উপকূলের দিকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। খবর আল জাজিরা।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে গাজা সিটির ভেতরে প্রবেশ করছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা দুদিক থেকে রীতিমতো ‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে পশ্চিম উপকূলের দিকে সরে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শোশানি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিমানবাহিনীর সহায়তায় পদাতিক বাহিনী, ট্যাংক ও আর্টিলারি গাজা সিটির ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এ হামলার লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ নুসেইরাত থেকে জানান, ইসরায়েলি আক্রমণের মুখে বাসিন্দারা পশ্চিমের উপকূলীয় রাস্তা আল-রাশিদের দিকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে ।
গাজা সিটির বাসিন্দাদের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, টানা ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনারা রিমোট-নিয়ন্ত্রিত ‘রোবট’ ব্যবহার করছে। এসব মানববিহীন যান বিস্ফোরক ভর্তি করে মহল্লা ধ্বংসের কাজে লাগানো হচ্ছে। তাদের হামলায় শুধু বৃহস্পতিবারই অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে গাজার মধ্যভাগে পালিয়ে যাওয়া পরিবারগুলো আবারো নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় ভুগছে। জাতিসংঘ মানবিক কার্যালয় (ওসিএইচএ) সতর্ক করেছে, গাজা সিটির মানুষদের টিকে থাকার জন্য যেমন খাবার, পানি, বিদ্যুৎ, ওষুধ, চিকিৎসা সেবার মতো প্রয়োজনীয় মৌলিক উপাদানগুলো ভেঙে পড়ছে।
ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, এখনো প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষ (মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ) গাজার উত্তরাংশে অবস্থান করছে। তবে অব্যাহত হামলা ও মৌলিক সেবার পতনের কারণে এ সংখ্যা দ্রুত কমে যেতে পারে। বিশেষত জিকিম ক্রসিং বন্ধ করে দেয়ার নেতিবাচক প্রভাব তাদের ওপর পড়বে। সংস্থাটির মতে, ইসরায়েল ‘পদ্ধতিগতভাবে সহায়তা প্রবেশে বাধা’ দিচ্ছে।