গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর দুই বছরের যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক মহলে ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে ইসরায়েলের। এ অবস্থায় নিজেদের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং প্রচারণার যুদ্ধে জেতার জন্য দেশটি মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সারদের পেছনে লাখ লাখ ডলার খরচ করছে। বুধবার (৩ অক্টোবর) রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর মিডল ইস্ট আই।
মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে দাখিল করা বিদেশী এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টেরর নথিপত্র অনুযায়ী, ইসরায়েলি সরকার চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত ইনফ্লুয়েন্সারদের অর্থ প্রদানের জন্য ৯ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রিজেস পার্টনার্স এলএলসি নামে ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক একটি সংস্থাকে এই ইনফ্লুয়েন্সারদের পরিচালনার জন্য অর্থ প্রদান করছে। ইসরায়েল জার্মানির হ্যাভাস মিডিয়া গ্রুপের মাধ্যমে ব্রিজেস পার্টনার্স এলএলসিকে টাকা পাঠায়।
ব্রিজেস পার্টনার্স এলএলসি তাদের ডিসক্লোজার ফর্মে জানিয়েছে যে, তাদের কাজের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান প্রচারে সহায়তা করা।
নথিতে আরো জানা যায়, এ সংস্থাটি ১৪ থেকে ১৮ জন ইনফ্লুয়েন্সারকে নিয়োগ করছে, যারা ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স, ইউটিউব এবং থ্রেডসের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম জুড়ে প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০টি করে ইসরায়েলপন্থী পোস্ট করবেন। প্রতিটি পোস্টের জন্য তারা ৬ হাজার ডলার পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন। এমনকি কিছু পোস্টের জন্য ৭ হাজার ডলারের বেশিও পেতে পারেন। এ পুরো প্রকল্পটি ‘এসথার প্রজেক্ট’ নামে পরিচিত।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নিউইয়র্ক সিটিতে একদল ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাদের জানান যে, ইসরায়েলের প্রতি কমে আসা সমর্থন মোকাবেলার উপায় হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করা।
তিনি আরো জানান, এটি ইসরায়েলি মিডিয়া কৌশলের একটি পরিপূরক, যার মাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাক্তন প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পার্সকেলের সঙ্গে দেড় মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবেলা করা।
এদিকে, তথ্যের যুদ্ধে জিততে ব্যর্থ হওয়ায় ইসরায়েলি সরকার দেশেও সমালোচনার মুখে পড়েছে। গত আগস্টে ইসরায়েলের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, তারা ইসরায়েলকে ‘একটি কুষ্ঠরোগী রাষ্ট্রে’ পরিণত করেছে।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে যে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন ক্রমশ কমছে। শুক্রবার প্রকাশিত একটি নতুন জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ মানুষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও সৈন্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে মত দিয়েছে। এছাড়া ৬৫ শতাংশ ডেমোক্র্যাট উত্তরদাতা ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে এবং ৭২ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।
জরিপটি করেছে ইউগভ পোলিং সংস্থা। এটি ওয়াশিংটনভিত্তিক ফিলিস্তিনি অধিকার প্রচারকারী অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিং পলিসি প্রজেক্ট এবং যুব নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল অ্যাডভোকেসি সংস্থা জেন-জেড ফর চেঞ্জ-এর জন্য এই জরিপটি পরিচালনা করে। এতে ১,২০০-এর বেশি ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি ভোটারের মতামত নেয়া হয়।