কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত, নিহত অন্তত ৪৭

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এবং কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার অনুভূত এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। প্রাথমিক খবরে কলম্বিয়ার সংস্থাটি ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৬ বলে জানিয়েছিল।

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরো অনেকে। এছাড়াও ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক বাসিন্দা আটকা পড়েছেন বলেও জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। খবর আল জাজিরা।

স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, পেরেইরা শহরে অন্তত ১৮ জন, মানিসালেসে ২ জন এবং কালি যে প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত—সেই 'ভাইয়ে দে কাউকা' প্রদেশে সর্বোচ্চ ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকে আটকা পড়ে থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এবং কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার অনুভূত এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। প্রাথমিক খবরে কলম্বিয়ার সংস্থাটি ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৬ বলে জানিয়েছিল।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার (৬৬ মাইল) গভীরে। তবে এর প্রভাবে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই জানিয়েছে মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ সংস্থা।

চোকোর গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা-কুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, আমরা চোকো বিভাগে একটি বড় মাপের ভূমিকম্প প্রত্যক্ষ করেছি। সম্ভাব্য আফটারশক নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মূল কেন্দ্রবিন্দু সান হোসে দেল পালমার হলেও রাজধানী কিবদো শহরের বহু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। ক্ষতি নিরূপণে আমরা কাজ করছি এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় কলম্বিয়া ও প্রতিবেশী ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোমধ্যে সমন্বিত ত্রাণ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

এদিন ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী বোগোতার বিভিন্ন ভবন ও গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বেজে ওঠে। আতঙ্কিত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। বোগোতার মেয়র কার্লোস গালান জানান, রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো কাঠামোগত ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু ভবনে সামান্য ফাটল দেখা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে বোগোতার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কালি শহরে অন্তত ২৫টি ভবন ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, দেশটির অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল 'এহে কাফেতেরো'র পেরেইরা ও মানিসালেস শহরের একাধিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

এদিকে মেডেলিন শহরে সাইরেন বাজিয়ে বহুতল অ্যাপার্টমেন্টগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আতঙ্কে ঘরের পোশাক কিংবা গায়ে তোয়ালে পেঁচিয়েই বাসিন্দারা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে মেডেলিনে কোনো ভবন পুরোপুরি ধসে পড়া বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। কোনো অবকাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষার স্বার্থে শহরের মেট্রো ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন মেয়র ফেদেরিকো গুতিয়েরেস। নিকটবর্তী শহরতলিতে বেশ কিছু বাড়িঘরের ছাদ ধসে পড়া ও দেয়ালে ফাটল ধরার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত জুনের শেষের দিকে প্রতিবেশী ভেনিজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ওই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগের কয়েক সপ্তাহের মাথায় কলম্বিয়ায় এ ভূকম্পন অনুভূত হলো।

আরও