ইরানের বিরুদ্ধে পাওয়া বিজয় উদযাপন করতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন নেতানিয়াহু

এটি চলতি বছরে নেতানিয়াহুর তৃতীয়বার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস করে দিয়েছে’। তিনি হুমকি দিয়েছেন, ইরান পুনরায় পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করলে আবারো সেখানে বোমাবর্ষণ করা হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে কথিত বিজয় উদযাপন করবেন। সেই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। খবর আল জাজিরা।

এটি চলতি বছরে নেতানিয়াহুর তৃতীয়বার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস করে দিয়েছে’। তিনি হুমকি দিয়েছেন, ইরান পুনরায় পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করলে আবারো সেখানে বোমাবর্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইসরায়েল গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তে সম্মত হয়েছে, যাতে করে দীর্ঘ ২১ মাসের যুদ্ধ শেষ করার একটি পথ তৈরি হতে পারে।

গত ৪ জুলাই কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ প্রস্তাবে ‘ইতিবাচক’ সাড়া দিয়েছে হামাস। ট্রাম্প বলেন, আগামী সপ্তাহেই একটি চুক্তি হতে পারে। যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহুর ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাস যুদ্ধবিরতির খসড়ায় কিছু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে, যেগুলো তারা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মনে করছে। এরপরও ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল রোববার কাতারে যাচ্ছে আলোচনার জন্য।

আল জাজিরার হাতে আসা একটি ফাঁস হওয়া খসড়া অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতির সময়কাল হবে ৬০ দিন। এ সময়ের মধ্যে হামাস ধাপে ধাপে গাজায় আটকে থাকা ৫৮ জন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় যে যুদ্ধ শুরু করে, তাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা ও বহু আইন বিশেষজ্ঞ এই ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করছেন।

বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই যুদ্ধবিরতি হলেও তা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের দিকে নিয়ে যাবে—এমন আশা করা কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ওমর রহমান বলেন, ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসরায়েলিদের মুক্ত করা, গাজার মানুষের দুর্দশা লাঘব নয়।

এর আগে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার ঠিক আগেই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার পর দুই মাসের মধ্যেই ইসরায়েল পুনরায় হামলা শুরু করে, তখন ট্রাম্প কোনো পদক্ষেপ নেননি।

আন্তর্জাতিক সংকট গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষক মাইরাভ জনসেইন বলেন, এবারও একই ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হতে পারে, তবে সেটা কতদিন টিকবে আর কী শর্তে হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’

গাজা থেকে সাংবাদিক ইয়াসের আল-বান্না জানান, এখানকার মানুষ বিভক্ত। কেউ বিশ্বাস করেন এবার হয়তো যুদ্ধ শেষ হবে, কেউ আবার নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হবে না যতক্ষণ না ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ অর্জিত হয়, যদিও সেই ‘বিজয়’ কেমন হবে, তা তিনি কখনো স্পষ্ট করে বলেননি।

অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প তার কূটনৈতিক সাফল্য দেখাতে এই যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা করছেন। তিনি গাজা ইস্যু দ্রুত নিষ্পত্তি করে ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়তে চান। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খালেদ এলগিন্ডি বলেন, ‘ট্রাম্প চান যেন তিনি বলতে পারেন—ইসরায়েলি বন্দিদের ফিরিয়ে এনেছেন, একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়েছেন, নিজেকে বিশ্ব রাজনীতির নায়ক হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে এ কাজগুলো অনেক কঠিন।’

নেতানিয়াহুর জন্যও রাজনৈতিক হিসাব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের অক্টোবরের আগে হলেও তিনি এর আগেই নির্বাচন ডাকতে পারেন যদি বন্দিদের মুক্ত করে জনসমর্থন বাড়াতে পারেন। তবে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হলে তার জোট ভেঙে পড়তে পারে, কারণ এই ডানপন্থী জোট গাজা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দাবিতে একতাবদ্ধ।

আরও