উইটকফ-কুশনারের কাঁধে বৈশ্বিক সংকটের আলোচনার দায়ভার, সফলতা মিলবে কতটুকু?

মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার যে ‘শাটল ডিপ্লোমেসি’ অনুসরণ করছেন, এতে তাদের ওপর বাড়তি চাপে কিংবা আদৌ এই ভিন্নধর্মী দুই সংকট সমাধান হবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার তার প্রিয় দুই দূতকে একই দিনে জেনেভায় দুটি ভিন্ন ও জটিল বৈশ্বিক সংকটের আলোচনার দায়িত্ব দিয়েছেন। যা নিয়ে রীতিমতো হতবাক পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার যে ‘শাটল ডিপ্লোমেসি’ অনুসরণ করছেন, এতে তাদের ওপর বাড়তি চাপ কিংবা আদৌ এই ভিন্নধর্মী দুই সংকট সমাধান হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। খবর রয়টার্স।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল সমস্যার বিষয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে খুব তড়িঘড়ি করে। এমনকি উভয় আলোচনার জন্য জেনেভাকে বেছে নেয়ার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়নি।

সাবেক পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ব্রেট ব্রুয়েন মনে করেন, ট্রাম্প গভীরভাবে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর মানের থেকে সংখ্যার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। একই সময়ে একই স্থানে দুটি ভিন্ন বিষয় সমাধানের চেষ্টাকে অযৌক্তিক বলছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওমানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রতিনিধিদল এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির মধ্যে সাড়ে তিন ঘণ্টার আলোচনা হয়। কিছুটা অগ্রগতির আভাস মিললেও, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়নি।

আবার এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতি বেড়েই চলেছে। এতে উত্তেজনা বজায় থাকার আশংকা রয়েছে, যা সামনে যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে ইরানের আলোচনা শেষ হতে না হতেই মার্কিন প্রতিনিধিরা বিশ্রাম না নিয়েই ওমানের কূটনৈতিক মিশন থেকে সোজা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চলে যান। সেখানে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে দুই দিনব্যাপী শান্তি আলোচনার প্রথম দিন শুরু হয়।

ইরানের একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, এই দ্বিমুখী আলোচনা মূলত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ বাড়াচ্ছে। একজন ডাক্তার জরুরি বিভাগে দুজন মুমূর্ষু রোগীকে দেখছেন, কিন্তু কাউকেই পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই এমন। এতে ব্যর্থতার সম্ভাবনাই বেড়ে যায়।

বৈরুতের কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের মোহানাদ হাজ-আলি বলেছেন, ইরানের এমন জটিল একটি সংকট যুক্তরাষ্ট্র এভাবে তা সামলাতে পারে না। বিশ্বের সব সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব উইটকফ ও কুশনারের মতো একটি দলের হাতে তুলে দেওয়া সত্যিই অবাক করার মতো বিষয়।

বিশেষজ্ঞের মতে, আবাসন ব্যবসার জগৎ থেকে আসা উইটকফ ও কুশনারের আরাকচি বা রুশ আলোচকদের মতো অভিজ্ঞদের মোকাবিলা করার মতো জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। তারা নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলেও মনে করা হচ্ছে।

অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, এই দুজন দক্ষ মধ্যস্থতাকারী এবং ট্রাম্পের আস্থাভাজন। তাছাড়া প্রথাগত কূটনৈতিক ধারা বছরের পর বছর ব্যর্থ হয়েছে।

ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বন্ধু স্টিভ উইটকফকে তার কাজের পরিধি বিবেচনায় প্রায়ই ‘সবকিছুর দূত’ বলা হয়। গত বছর গাজা যুদ্ধে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে তিনি ভূমিকা রাখলেও এটি স্থায়ী সমাধান পৌঁছাতে পারেনি। সঙ্গে ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সফলতা দেখেনি।

ট্রাম্পের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি) থেকে অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো দুর্বল করে ফেলেছেন। ফলে এখন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে উইটকফ ও কুশনারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। আবার এ ধরনের কাজ সম্পন্ন করার জন্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে অভিজ্ঞ জনবল আদৌ আছে কি না তা নিয়েও ক্রমাগত সন্দেহ বাড়ছে।

আরও