ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর পূর্বঘোষিত সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। লাঠি ও ঢাল হাতে নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে সমাবেশস্থলের আশপাশে। বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের ঘটনায় দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে আজ এ কর্মসূচি পালন করছে বিরোধীরা।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এ পদযাত্রা ও সমাবেশে লাখো মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে বিরোধী দলগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য এ কর্মসূচি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
বিরোধী দল, শিক্ষার্থী সংগঠন এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি গত মাস থেকে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছে। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে বিজেপির পক্ষে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কমিশনের দাবি, ভুলভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা।
আজ কেন্দ্রীয় দিল্লি থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পদযাত্রা করার কথা বিরোধীদের। সমাবেশের জন্য নির্ধারিত এ মাঠে বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ ও বিকল্প পথের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা রোহিত রাজবীর সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, সমাবেশস্থলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পদযাত্রার পথেও নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই উপপ্রধান অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।
গত বছর শুরু হওয়া সংশোধন কার্যক্রমে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ দেয়া হয়েছে—যা জাপানের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এ বিষয়ে দেয়া ব্যাখ্যায় ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত, ৬ কোটি ৩০ লাখ স্থানান্তরিত এবং ৩ কোটি ভোটারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিরোধীদের অভিযোগ, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের বিক্ষোভ এবং বিরোধীদের প্রতি বাড়তে থাকা সমর্থন ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি করেছে। তবে সরকার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৯ সালে।