যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইসরায়েলকে তিনি দখলকৃত পশ্চিম তীর সংযুক্ত করতে দেবেন না। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের একদিন আগে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রাম্প এ অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করেন। খবর আল জাজিরা।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে দেব না। কোনোভাবেই নয়। এটা ঘটতে যাচ্ছে না।‘
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইসরায়েলি সংযুক্তি প্রচেষ্টা বন্ধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিশ্চিত কিছু বলেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, কিন্তু আমি অনুমতি দেব না। কথা বলেছি কি বলিনি সেটা বিষয় নয়—ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করতে পারবে না। যথেষ্ট হয়েছে, এখন থামার সময়।‘
তবে অধিকৃত পশ্চিম তীরের সম্ভাব্য সংযুক্তিকরণ রোধে তিনি কী পদক্ষেপ নেবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। এই অস্থিরমতি মার্কিন নেতা তার মন পরিবর্তন করবেন কি না— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারভিত্তিক সেন্টার ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান স্টাডিজের বিশ্লেষক এবং অনাবাসী ফেলো মুইন রাব্বানি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট তার কথায় অটল থাকবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
রাব্বানি বলেন, ‘কেউ যদি ট্রাম্পের কথায় ভরসা করে, তবে তা নিজের ঝুঁকিতেই করে। এখন প্রশ্ন হলো, তিনি কি সত্যিই ইসরায়েলকে দখল থেকে বিরত রাখবেন? আর যদি ইসরায়েল অগ্রসর হয়, তখন তিনি কী করবেন?’
ইসরায়েলের ডানপন্থী সরকার দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীর সংযুক্তির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট) পশ্চিম তীর দখলকে সমর্থন জানিয়ে ৭১-১৩ ভোটে একটি অ-বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাস করে।
এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী ও চরম ডানপন্থী নেতা বেজালেল স্মোত্রিচ, যিনি নিজেই পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে বসবাস করেন। তিনি দখলকৃত ভূমিতে নতুন হাজারো আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন। তার মতে, এই বসতি সম্প্রসারণের পর ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণা চিরতরে সমাধিস্থ হবে।‘
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল দখলকৃত পশ্চিম তীরে ধারাবাহিকভাবে বসতি স্থাপন করে আসছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রায় দেয়, এই বসতিগুলো অবৈধ এবং তা বন্ধ করে জমি ফিলিস্তিনিদের ফিরিয়ে দিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, পর্তুগালসহ একাধিক দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সামান্য পরিবর্তনও ইসরায়েলের ভেতরে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।
গাজা প্রসঙ্গে সংক্ষেপে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘পরিস্থিতি ভয়াবহ, খুবই খারাপ।‘ তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, শিগগিরই শান্তি চুক্তি হতে পারে। এর আগে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।