‘ট্রিগারে আঙুল, প্রস্তুত ইরান’— ইরানের স্পিকারের হুঁশিয়ারি

‘ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি এখন আরো ত্বরান্বিত হবে।‘

গালিবাফ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর আক্রমণের নিন্দাও জানায়নি। এটি তাদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।'

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত। ট্রিগারে আমাদের আঙুল—যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে আমরা কঠোর ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাব। ইরান আর কোনো প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা দেবে না।‘ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-এর খবর।

বুধবার (২৫ জুন) পার্লামেন্টের এক উন্মুক্ত অধিবেশনে গালিবাফ এ মন্তব্য করেন। এর একদিন আগেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই যুদ্ধে ইরানের নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছিল।

ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটি তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির গতি আরো ত্বরান্বিত করবে।

গালিবাফ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর আক্রমণের নিন্দাও জানায়নি। এটি তাদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সে কারণে আমাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করছে।‘

তিনি আরো বলেন, ‘ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি এখন আরো ত্বরান্বিত হবে।‘

একই অধিবেশনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতায় হস্তক্ষেপ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার প্রতিবাদে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিতের ব্যাপারে একটি প্রস্তাব পাস করেন ইরানি আইনপ্রণেতারা।

গালিবাফ বলেন, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্ত প্রতিক্রিয়ার মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বাধ্য হয়ে যুদ্ধ থামিয়েছে। তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।‘

তিনি আরো বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থামানো শত্রুপক্ষের লক্ষ্য ছিল, কিন্তু তারা তাতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর তাদের সব শহরই এখন অনিরাপদ।

আরও