বন্যার ভয়াবহতা থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও স্বস্তি ফিরছে না নেপালের ভোটেকোশি এলাকার মানুষের জীবনে। বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট—সব মিলিয়ে ঘরবাড়ি হারানো মানুষ এখন নতুন করে অসুস্থতার ঝুঁকিতে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা। খবর দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট।
বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে প্রাণে বেঁচে স্থানীয় একটি বেসিক স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন দেড় শতাধিক মানুষ। তাদেরই একজন ২৬ বছর বয়সী রঞ্জিনা তামাং। চার মাস আগে পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন তিনি। রঞ্জিনার সেই শিশুপুত্র গত শনিবার থেকে জ্বরে ভুগছে। রোববার স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুটিকে পরীক্ষা করে ওষুধের তালিকা দিলেও তা কেনার মতো অর্থ নেই তার। বন্যায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ওষুধ কেনার সুযোগও সীমিত।
রঞ্জিনার মতো অনেকেই বন্যার পানিতে ঘরবাড়ির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসার প্রেসক্রিপশনও হারিয়েছেন। বিদুর পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান রাম রাজা ভান্ডারি বলেন, অনেক রোগী তাদের রোগের নাম জানলেও নিয়মিত কোন ওষুধ সেবন করতেন, তা জানেন না। বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যক্ষ্মা রোগীদের নিয়ে। নিয়মিত সেবন জরুরি এমন ওষুধও কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শেষ হয়ে গেছে।
ওষুধের সংকটের পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রের পরিবেশও বাড়াচ্ছে সংক্রমণের আশঙ্কা। শিবালয়া স্কুলের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের এক একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৩০ জন। দুই শতাধিক মানুষের জন্য শৌচাগার আছে মাত্র দুটি। অতিরিক্ত ভিড়ের সময় অনেককে বাইরে মলত্যাগ করতে হচ্ছে। এতে পানির উৎস দূষিত হয়ে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এরইমধ্যে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে ভাইরাল জ্বর ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্যায় স্বজন হারানো মানুষের মধ্যেও বাড়ছে মানসিক চাপ ও উৎকণ্ঠা।
ত্রিশূলী হাসপাতালেও বন্যার প্রভাব স্পষ্ট। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ রোগী আসতেন, এখন সেখানে আসছেন মাত্র পাঁচ থেকে ১০ জন। রোগী কমে যাওয়ার অর্থ অসুস্থতা কমেছে এমন নয়; বরং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেকেই হাসপাতালে পৌঁছতে পারছেন না। অহ্চলজুড়ে বাড়ছে ডায়রিয়ার পার্দুভাব।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শের বাহাদুর পুন বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত তাকে আলাদা করা জরুরি। তা না হলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়া, হাম বা কলেরার মতো রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়েও নজর দিতে হবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গম এলাকায় ওষুধ পৌঁছে দেয়াও কঠিন হয়ে উঠেছে। খাদগাভাঞ্জ্যাংয়ের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ড্রোনের মাধ্যমে ওষুধ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেক এলাকায় চাল, লবণ ও রান্নার তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও ফুরিয়ে যাচ্ছে।