যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে দেশটির 'মরিয়া আচরণের লক্ষণ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরান। তেহরানের অবস্থান দমনে ওয়াশিংটনের ঘোষিত সব পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। খবর রয়টার্স।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলন করে ইরানের ওপর ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার যে হুমকি দিয়েছিলেন, এর জবাবে তেহরানের পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া এলো।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি মারাত্মক চাপে রয়েছে। হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। মার্কিন হামলায় ইরানি নৌ ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা অনেকটা সংকুচিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা এখনও ধরে রেখেছে দেশটি।
দীর্ঘ ছয় মাসের সংঘাত সত্ত্বেও রণনীতিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে তেহরান। বিশ্বজুড়ে অশোধিত তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট হরমুজ প্রণালিতে বিনা অনুমতিতে কোনো জ্বালানি ট্যাঙ্কার চলাচল করতে দিচ্ছে না তারা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রশাসন তাদের সরাসরি সামরিক অবস্থান থেকে সরে এসে আবারও সেই পুরনো নিষেধাজ্ঞার ছক সামনে আনছে। তাদের এ পুনরাবৃত্তিমূলক কৌশল প্রমাণ করে ওয়াশিংটন কতটা কোণঠাসা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাত নিরসনে সম্মানজনক ও ন্যায়ভিত্তিক আলোচনার বিকল্প নেই।
এদিকে যেসব দেশ ইরানকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেবে, তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে চীনের দিকে। ইরানের মোট তেল রফতানির ৮০ শতাংশের বেশি কেনে দেশটি। তবে বেইজিং সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে আশার বিষয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে এরই মধ্যে আবারো কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তেহরান সফরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো থেকে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার প্রস্তাব পাওয়ার দাবি করেছেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
যুদ্ধ শুরুর সময় ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদল ঘটানোর মতো যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তা এখনও অর্জিত হয়নি। এ অবস্থায় একদিকে সামরিক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা এবং অন্যদিকে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে রেখে যুদ্ধের ইতি টানার আহ্বান জানাচ্ছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।