আবারও ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’ শুরু করবে ইরান?

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘হরমুজ বন্ধ করা ইরানের জন্য আত্মঘাতী হবে। তাদের অর্থনীতি ওই পথেই চলে।” সেই অর্থে এখন ইরান এক জটিল দোটানায়—অংশত পাল্টা আঘাত চালানো, নাকি প্রণালি বন্ধ করে পুরো পশ্চিমা শক্তিকে রোষানলে টেনে আনা?

১৯৮০-এর দশকে পারস্য উপসাগরে এক অদৃশ্য যুদ্ধের জন্ম হয়েছিল, যার কেন্দ্র ছিল ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত এক জলপথ—হরমুজ প্রণালি। সেখানেই ফের উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হওয়ার পর প্রশ্ন জেগেছে—ইরান কি আবার ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’ শুরু করতে যাচ্ছে?

১৯৮০-এর দশকের সংঘাতে ইরান ও ইরাক সমানতালে সামুদ্রিক মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্পিডবোট দিয়ে একে অপরের তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এবারও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। যদিও ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ভেতরের একটি অংশ জানিয়েছে, এখনই হরমুজ বন্ধ করার মতো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, তবুও প্রণালিকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি তীব্র হচ্ছে।

বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ সামুদ্রিক তেল এবং ২০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে। কাতার, সৌদি আরব, ইরানসহ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির প্রধান রুট এটি। বন্ধ হয়ে গেলে একদিকে যেমন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বিপর্যয় নেমে আসবে, তেমনি ইরান নিজেও অর্থনৈতিক আত্মঘাতী ধাক্কা খাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের নৌবাহিনী এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা থেকে অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। ২,০০০টি সামুদ্রিক মাইন, ড্রোন, দ্রুতগামী স্পিডবোট ও হেলিকপ্টারের সাহায্যে রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্বাস গোলামশাহী হরমুজ বন্ধ করার পরিকল্পনা রচনা করেছেন।

ইরান অতীতেও ‘লিমপেট মাইন’ বা চৌম্বক বিস্ফোরক দিয়ে জাহাজের তলদেশে আঘাত হেনেছিল। এমনকি ১৯৯১ সালে ইরাকের মতোই সমুদ্রের নিচে বসানো মাইন দিয়ে অবরোধ করেছিল আমেরিকান নৌবাহিনীর চলাচল।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘হরমুজ বন্ধ করা ইরানের জন্য আত্মঘাতী হবে। তাদের অর্থনীতি ওই পথেই চলে।” সেই অর্থে এখন ইরান এক জটিল দোটানায়—অংশত পাল্টা আঘাত চালানো, নাকি প্রণালি বন্ধ করে পুরো পশ্চিমা শক্তিকে রোষানলে টেনে আনা?

ইরানের প্রতিক্রিয়া এখনো পূর্ণমাত্রায় প্রকাশ পায়নি। তবে যদি হরমুজ প্রণালিতে আবার একটি ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’ শুরু হয়, সেটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, পুরো বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

সূত্র : ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

আরও