হামাসের হাতে এখনো আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবার অভিযোগ তুলেছে, তাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে আনা এবং একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে ‘একমাত্র বাধা’ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছে, তিনি ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সব ধরনের অজুহাত তৈরি করছেন। খবর বিবিসি।
'হোস্টেজস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম: ব্রিং দেম হোম নাউ' নামে জিম্মিদের স্বজনদের সংগঠনটি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, গত সপ্তাহে কাতারে ইসরায়েলের হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, যখনই কোনো চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হতে যায়, নেতানিয়াহু তা বানচাল করেন।
কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের চালানো হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। জিম্মিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর এল স্বজনদের এ মন্তব্য।
শনিবার নেতানিয়াহু বলেছিলেন, কাতারে থাকা হামাস নেতাদের নির্মূল করা গেলে জিম্মিদের মুক্তি এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথে প্রধান বাধা দূর হবে। তিনি হামাসের বিরুদ্ধে গাজার যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার জন্য সব ধরনের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করারও অভিযোগ করেন।
ইসরায়েলের এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক নিন্দা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফর করেছেন এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে জিম্মিদের পরিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘প্রিয়জনদের ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থতার সর্বশেষ অজুহাত’ হিসেবে দেখছে।
তারা আরো বলেছে, ‘কাতারে চালানো এই অভিযান সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে ৪৮ জন জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা এবং যুদ্ধ শেষ করার পথে একটিই বাধা: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য সময় কেনার এই অজুহাত তৈরির সময় শেষ হয়েছে।‘ তাদের মতে, নেতানিয়াহুর এই ‘সময়ক্ষেপণ’ ৪২ জন জিম্মির জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং যারা এখনো জীবিত আছেন, তাদের জীবনকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।
ইসরায়েলের হামলার পর কাতার ঘটনাটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু বলেছেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় দায়ী হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো হামলাটি ‘সম্পূর্ণ যৌক্তিক’ ছিল।