ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রেড সি শিপিংয়ের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় শনিবার (১৫ মার্চ) হামলা চালানোর নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন এ হামলা বেশ কিছুদিন চলতে পারে। খবর রয়টার্সের।
ইরানের প্রতি হুঁশিয়ারি জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে এখনই হুতি গোষ্ঠীকে সমর্থন দেয়া বন্ধ করতে হবে। যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেয়, তাহলে এর দায় পুরোপুরি তাদের এবং আমরা এতে সহনশীল হব না! ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পরই ইয়েমেনে হামলার খবর এলো।
এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এই হামলা সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলতে পারে, যা দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের ক্ষমতা নেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য চাপ দিচ্ছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, সব হুতি সন্ত্রাসীদের বলছি, তোমাদের সময় শেষ এবং তোমাদের হামলা আজ থেকেই বন্ধ করতে হবে। যদি তা না হয়, তবে জাহান্নাম তোমাদের ওপর বৃষ্টি ঝরাবে, যা আগে কখনো দেখোনি!
হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী সানায় মার্কিন হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন। আর হুতি-চালিত আল-মাসিরা টিভি জানায়, সারাদা প্রদেশের এক হামলায় ১১ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন, এর মধ্যে ৪ জন শিশু এবং ১ জন নারী ছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলাকে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে বর্ণনা করেছে হুতি রাজনৈতিক ব্যুরো। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আমাদের ইয়েমেনি সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত, উত্তেজনা বাড়লে আমরাও উত্তেজনা বাড়াব।