এল মেনচো নামে পরিচিত মেক্সিকোর অন্যতম ‘কুখ্যাত মাদকসম্রাট’ নেমেসিও ওসেগুয়েরা সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন। গতকালের ওই ঘটনার পর দেশটি জুড়ে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্স।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (জিজেএনজি) মূলহোতা ৬০ বছর বয়সী ওসেগুয়েরা। দেশটির জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী শহর তাপালপায় বিশেষ বাহিনীর অভিযানে আহত হন তিনি এবং পরে হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেন।
ন্যাশনাল গার্ডের কঠোর নিরাপত্তায় গতকাল বিকালে এল মেনচোর মরদেহ মেক্সিকো সিটিতে আনা হয়।
কৃত্রিম ওপিওয়েড ফেন্টানিল পাচারে যুক্ত মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান জোরদারের বিষয়ে ওয়াশিংটনের চাপের মুখে ছিলেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। গত বছর দেশটির ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত উচ্চ শুল্কের অন্যতম কারণও ছিল এটি।
সূত্রগুলো জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তায় মেক্সিকান বাহিনী অভিযানটি পরিচালনা করে। এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘মার্কিন সামরিক নেতৃত্বাধীন নতুন একটি টাস্কফোর্স এ অভিযানে ভূমিকা রেখেছে।’
এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কার্টেলের সশস্ত্র সদস্যরা অর্ধডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে জ্বলন্ত গাড়ি রেখে মহাসড়ক অবরোধ করে এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মেক্সিকোর বিভিন্ন অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তবে বেসামরিক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
জালিস্কোর জনপ্রিয় সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্র পুয়ের্তো ভালার্তায় অবস্থানকারী আতঙ্কিত পর্যটকরা সামাজিক মাধ্যমে এলাকাটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ উপসাগরের চারপাশ থেকে আকাশে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন তারা। এয়ার কানাডা, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, অ্যারোমেক্সিকো ও আমেরিকান এয়ারলাইনস ওই এলাকায় ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ওসেগুয়েরা পশ্চিমাঞ্চলীয় জালিস্কো রাজ্যের নামে জিজেএনজি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দ্রুত উত্থানের নেতৃত্ব দেন। জালিস্কোয় মেক্সিকোর অন্যতম বড় শহর গুয়াদালাহারা অবস্থিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জিজেএনজি মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী কার্টেলগুলোর একটিতে পরিণত হয়। সদস্য সংগ্রহে জবরদস্তির মতো সহিংস কৌশল ব্যবহার করত তারা।
এল মেনচোর নেতৃত্বে মাদক পাচারের বাইরে জ্বালানি তেল চুরি, চাঁদাবাজি, মানব পাচার এবং জটিল আর্থিক জালিয়াতিতেও জড়িয়ে পড়ে জিজেএনজি। পশ্চিম মেক্সিকোর দুর্গম অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলায় ড্রোন ব্যবহারের পথিকৃৎও ছিল এই কার্টেল, যা তাদের দ্রুত ভূখণ্ড বিস্তারের অংশ।
অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মাদক পাচারের জন্য দায়ী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে মেক্সিকোর অন্যতম উচ্চপ্রোফাইল আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রতিদ্বন্দ্বী সিনালোয়া কার্টেলের নেতা হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমান ও ইসমাইল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা জীবিত অবস্থায় গ্রেফতার হন। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে রয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন এল মেনচোর মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে এর ফলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ সহিংসতা শেইনবাউমের জন্য রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানান, দেশের অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সতর্কতামূলকভাবে সোমবারের জন্য স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে রাজ্য পর্যায়ের শিক্ষা বিভাগগুলো জানিয়েছে।