ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, ওড়িশা-অন্ধ্র প্রদেশে সতর্কতা জোরদার

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) আজ সকালে জানিয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলের কাছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব প্রায় স্থির অবস্থায় ছিল। ভোরে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া আরো দুই-তিন ঘণ্টা চলতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে সকাল সাড়ে ৭টার পূর্বাভাসে বলা হয়, পরবর্তী এক ঘণ্টার মধ্যে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে

ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এর প্রভাবে ওড়িশা ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোয় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবেলায় দুই রাজ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বিদ্যালয়, নিষিদ্ধ করা হয়েছে সমুদ্রে মাছ ধরা এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) আজ সকালে জানিয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলের কাছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব প্রায় স্থির অবস্থায় ছিল। ভোরে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া আরো দুই-তিন ঘণ্টা চলতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে সকাল সাড়ে ৭টার পূর্বাভাসে বলা হয়, পরবর্তী এক ঘণ্টার মধ্যে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে।

সকাল সাড়ে ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলে, ইয়ানামের দক্ষিণে অবস্থান করছিল। তখন ঝড়টির একটানা বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১৫-১২৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর আগে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা জানানো হয়েছিল।

আইএমডি সতর্ক করে বলেছে, পরবর্তী তিন ঘণ্টায় অন্ধ্র প্রদেশের নিচু এলাকাগুলোয় জলোচ্ছ্বাসের পানি ঢুকে পড়তে পারে। জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে এক-দেড় মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিশাখাপত্তনমের ওয়ালটেয়ারে ২১৭ মিলিমিটার, কলিঙ্গপত্তনমে ১৪৭ মিলিমিটার, টুনিতে ১২৩ মিলিমিটার এবং কাকিনাডায় ১১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পশ্চিম গোদাবরী, কাকিনাডা ও ইয়ানাম উপকূলেও প্রবল বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

আজ সকালে কাকিনাডা উপকূলে উত্তাল সমুদ্র ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে জনজীবন ব্যাহত হয়। বিশাখাপত্তনমের আরকে সমুদ্রসৈকতে প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ। জেলেদেরও সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

কাকিনাডায় আটকে পড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ত্রাণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ভেঙে পড়া গাছ সরানো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার ভোর পর্যন্ত রাজ্যটিতে ৬০৯টি স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৮৫৪ জন।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঝাড়খণ্ডের কয়েকটি এলাকায় টানা তিন দিন ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য রাঁচি, খুঁটি, সিমডেগা, গুমলা, লোহারদাগা, সরাইকেলা-খরসাওয়ান এবং পূর্ব ও পশ্চিম সিংভূম জেলায় ভারি বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ভারতীয় রেলওয়ে কয়েকটি ট্রেন চলাচলও বাতিল করেছে। জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কমিটি পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব টি ভি সোমানাথন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনা এবং সম্পদ ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীও (এনডিআরএফ) উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে এবং অতিরিক্ত দল প্রস্তুত রেখেছে।

আরও