রেকর্ড পরিমাণ ক্ষয়ের মুখে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের প্রবাল

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে চাইলে কয়লা ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর উচিত দ্রুত কম-নিঃসরণ ও শূন্য নিঃসরণ প্রযুক্তির দিকে যাওয়া।

সমুদ্রের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাল ক্ষয় দেখা দিয়েছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংস্থা ‘অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স’ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত রিফ অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে— রেকর্ড শুরুর পর এটাই সবচেয়ে বিস্তৃত প্রবাল বিবর্ণতার ঘটনা। ১৯৮৬ সাল থেকে রিফের প্রবাল প্রাচীরের রেকর্ড রাখা শুরু হয়। খবর আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশে প্রবালের আচ্ছাদন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এই অংশেই সবচেয়ে বেশি তাপ ও চাপ রেকর্ড করা হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর প্রণালী গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। প্রায় ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রবাল প্রাচীর অসাধারণ জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল। ‘অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স’-এর প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক সেলিনা স্টেড বলেন, বিশ্বের প্রবাল প্রাচীরগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের ওপর। স্থানীয় চাপ মোকাবিলা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে রিফকে অভিযোজিত ও পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করাও জরুরি বলে জানান তিনি।

ইউনেস্কোর মতে, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত একটি অঞ্চল। এখানে ৪০০ প্রজাতির প্রবাল ছাড়াও রয়েছে ১,৫০০ প্রজাতির মাছ, ৪,০০০ প্রজাতির শামুক, ২৪০ প্রজাতির পাখি ও বৃহৎ সবুজ কচ্ছপের মতো প্রাণী। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রিফকে বিপন্ন তালিকাভুক্ত করা উচিত। কিন্তু অস্ট্রেলীয় সরকার এই তালিকাভুক্তির বিরোধিতা করছে, কারণ এতে দেশটির বিলিয়ন ডলারের পর্যটন রাজস্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ অথরিটি’ জানিয়েছে, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে চাইলে কয়লা ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর উচিত দ্রুত কম-নিঃসরণ ও শূন্য নিঃসরণ প্রযুক্তির দিকে যাওয়া। বিশেষ করে মিথেন গ্যাসের মতো জলবায়ু দূষক নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। এটি স্বল্প-মেয়াদে জলবায়ু উষ্ণতায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে অস্ট্রেলিয়া এখনো কয়লা রফতানিতে বিশ্বে শীর্ষে।

আরও