প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বির পরিমাণ সম্পর্কে ভোক্তাদের সতর্ক করতে সামনের অংশে বিশেষ সতর্কীকরণ লেবেল চালুর প্রস্তাব করেছে ভারতের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ বিষয়ে দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে প্রস্তাবটি জমা দিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)। খবর রয়টার্স।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্যাকেটজাত খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, চিনি বা লবণের মধ্যে অন্তত দুটি পুষ্টি উপাদানের মাত্রা নির্ধারিত সীমার বেশি হলে প্যাকেটের সামনের অংশে লাল রঙের ষড়ভুজ আকৃতির সতর্কীকরণ চিহ্ন দিতে হবে। সেখানে ‘হাই ফ্যাট’, ‘হাই সুগার’, ‘হাই সল্ট’ অথবা ‘হাইলি সুইটেনড বেভারেজ’—প্রযোজ্য ঘোষণা দেয়া থাকবে।
নতুন প্রস্তাবে একাধিক শর্ত রাখা হয়েছে। লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মধ্যে অন্তত দুটি উপাদান উচ্চমাত্রায় থাকলেই লাল চিহ্ন দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালু করা হবে। সহজেই যাতে ভোক্তারা এসব খাবার শনাক্ত করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এফএসএসএআই বলছে, নতুন এ ব্যবস্থা বিশেষ করে শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য খাবার নির্বাচনে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। বর্তমানে ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে পণ্যের পেছনের অংশে উপাদান ও মৌলিক পুষ্টিগুণের তথ্য দেয়া বাধ্যতামূলক। তবে সামনের অংশে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বি সম্পর্কে আলাদা সতর্কীকরণ দেয়ার নিয়ম নেই।
ভারতের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের খাদ্য ও পানীয় বাজারে বড় কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের সতর্কীকরণ লেবেলের বিরোধিতা করে আসছে। কোকাকোলা এবং নেসলে ও পেপসিকোর মতো কোম্পানির প্রতিনিধিত্বকারী শিল্প সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের চিহ্ন ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে। পরিবর্তে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ বা ‘পোর্শন কন্ট্রোল’-এর ওপর গুরুত্ব দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে শিল্পখাত।
চলতি বছরের মার্চে এ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিল্পপ্রতিনিধিদের এক বৈঠকেও সতর্কীকরণ লেবেলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী ও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের লেবেল চালুর দাবি জানানো হচ্ছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকারকে চাপ দিয়ে আসছে।
দেশটিতে স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত হতে পারেন। এমন প্রেক্ষাপটে প্যাকেটজাত খাবারে সামনের অংশে সতর্কীকরণ লেবেল চালুর প্রস্তাবকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।