নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে অন্তত ৬৭৫ জনের এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুদেশ মিলিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি মানুষ।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সবশেষ গতকাল শনিবার শেষরাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ এবং নিখোঁজ ২ হাজার ৪৯৮ জন বলে নিশ্চিত করেছে। দেশটিতে নিখোঁজদের তালিকায় ৫১৭ জন বিদেশী এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন শ্রমিক রয়েছেন। অন্যদিকে আজ রোববার তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ২৬১ বিদেশী নাগরিকসহ ৫৪৬ জন নিখোঁজের কথা জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসি, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে ধ্বংসস্তূপ ও পানির নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের নুয়াকোট জেলায় হেলিকপ্টারে করে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। কাপড়, চাল, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও শুকনো খাবার নিয়ে হেলিকপ্টারগুলো দুর্গত এলাকায় যাচ্ছে। ফেরার পথে নিয়ে আসছে বেঁচে যাওয়া মানুষকে। অনেকেই শুধু পরনের কাপড় নিয়ে উদ্ধার কেন্দ্রে পৌঁছেছে। তবে দুর্গত ত্রিশূলী থেকে মানুষ সরে গেলেও কেউ কেউ ফিরছে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া বাড়ি থেকে কিছু উদ্ধার করা যায় কিনা দেখতে।
দুর্যোগ আঘাত হানার পঞ্চম দিনে এসে মরদেহ শনাক্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বজনরা হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে ছবিগুলোর সঙ্গে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের চেহারা মেলানোর চেষ্টা করছেন। অনেকেই নিশ্চিত হতে পারছেন না। একদিকে উদ্ধার হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপ, কাদা ও নদীর স্রোত থেকে নতুন নতুন মরদেহ উদ্ধারের সঙ্গে হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।
রাজধানী কাঠমান্ডুর প্রধান সরকারি হাসপাতালের বাইরে ভিড় করছে নিখোঁজদের স্বজনরা। কারো হাতে প্রিয়জনের ছবি, কেউ হেল্প ডেস্ক ও হাসপাতালের নোটিস বোর্ডের মধ্যে ছোটাছুটি করছে। আহতদের তালিকায় পরিচিত কোনো নাম আছে কিনা সেটিই তাদের একমাত্র ভরসা।
এদিকে গত বুধবারের এ দুর্যোগের পর নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতি হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।