২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল চীন, দাবি ট্রাম্পের

ট্রাম্পের দাবি, চীন বেআইনিভাবে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ১৮টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তথ্য কেনা, চুরি বা হ্যাক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এসব তথ্য ব্যবহার করে ভোটিং ব্যবস্থা পরিবর্তন বা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি। এমন সময়ে এসে দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থায় ‘চাঞ্চল্যকর দুর্বলতা’ থাকার অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের পক্ষে ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল চীন। খবর বিবিসি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া প্রায় ৩০ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তিনি শত শত গোপন গোয়েন্দা নথি অবমুক্ত করেছেন, যেখানে নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের তথ্য রয়েছে।

তার দাবি, চীন বেআইনিভাবে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ১৮টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তথ্য কেনা, চুরি বা হ্যাক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এসব তথ্য ব্যবহার করে ভোটিং ব্যবস্থা পরিবর্তন বা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।

ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আগের গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০২১ সালে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের নির্বাচনে চীন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস জানায়, বেইজিং কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

এদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করছেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভোটাররাই তাদের নেতা নির্বাচন করেন এবং প্রতিটি নাগরিক যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে।

ভাষণে ট্রাম্প আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটিং মেশিন বিদেশী প্রতিপক্ষ—বিশেষ করে রাশিয়া, চীন ও ইরানের—হস্তক্ষেপের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, মিশিগানে ডেমোক্র্যাট-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের ভোটার নিবন্ধন জালিয়াতির তদন্ত এফবিআইয়ের কারণে সময়মতো এগোয়নি। তবে এ ক্ষেত্রেও তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।

এছাড়া ট্রাম্প বলেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার অনাগরিকের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের তথ্য শনাক্ত করেছে। তবে তারা ভোট দিয়েছেন কি না বা কোনো নির্বাচনের ফলে এর প্রভাব পড়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

ভাষণের শেষ দিকে ট্রাম্প আবারও 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসের আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত এ আইনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডাকযোগে ভোট দেয়া নিষিদ্ধ করা, ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোটদানের জন্য ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। তবে বিলটি কয়েক মাস ধরে সিনেটে আটকে রয়েছে।

আরও